রাজসাক্ষী কি, আইনে কি সুবিধা পেতে পারে
রাজসাক্ষী কাকে বলে ? কিভাবে রাজসাক্ষী ঘোষণা করা হয় বা আসামীকে রাজসাক্ষী করার পদ্ধতি আলোচনা কর। রাজসাক্ষীকে কে ক্ষমা মঞ্জুর করতে পারেন?
রাজসাক্ষী মিথ্যা সাক্ষ্য দিলে বিচারের পদ্ধতি আলোচনা কর।
আরও পড়ুন: দায়িত্বে অবহেলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকা সিটির দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা বরখাস্ত
উত্তরঃ রাজসাক্ষী
একটি অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত বা সে সম্পর্কে গোপন তথ্যের অধিকারী কোন ব্যক্তি ক্ষমা পাওয়ার শর্তে অপরাধের সমগ্র ঘটনা, মূল অপরাধী ও সহায়তাকারী হিসেবে জড়িত সকল অপরাধী সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও সত্য ঘটনা প্রকাশ করে বিজ্ঞ আদালতে যে সাক্ষ্য প্রদান করে তাকে রাজসাক্ষী বলে। কার্যবিধির ৩৩৭, ৩৩৮ ধারা, সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারা, পিআরবি বিধি ৪৫৯, ৪৮৬।
আরও পড়ুন: নিজেই ড্রাইভ করে ঢাকার বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
রাজসাক্ষী ঘোষণা বা আসামীকে রাজসাক্ষী করার পদ্ধতি
রায় দেয়ার পূর্বে কেবলমাত্র দায়রা আদালতে বিচারযোগ্য কোন অপরাধ বা দশ বছর কারাদন্ডে দন্ডনীয় কোন অপরাধ বা দন্ডবিধির ২২১ ধারা অনুসারে ৭ বছর কারাদন্ডে দন্ডনীয় হবে এমন অপরাধের ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেনীর কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অপরাধটির তদন্ত, অনুসন্ধান বা বিচারের যে কোন পর্যায়ে অপরাধটির সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত বা সে সম্পর্কে গোপন তথ্যের অধিকারী কোন ব্যক্তিকে অপরাধের সমগ্র ঘটনা, মূল অপরাধী ও সহায়তাকারী হিসেবে জড়িত সকল অপরাধী সম্পর্কে পূর্নাঙ্গ ও সত্য ঘটনা প্রকাশ করে বিজ্ঞ আদালতে যে সাক্ষ্য প্রদানের শর্তে ক্ষমার প্রস্তাবের মাধ্যমে রাজসাক্ষী ঘোষণা করেন। কার্যবিধির ৩৩৭, ৩৩৮ ধারা
রাজ সাক্ষীকে ক্ষমা মঞ্জুর:
রায় দেয়ার পূর্বে দায়রা আদালতের বিচারক অপরাধের বিচার চলাকালে অপরাধটির সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত বা সে সম্পর্কে গোপন তথ্যের অধিকারী কোন ব্যক্তিকে অপরাধের সমগ্র ঘটনা, মূল অপরাধী ও সহায়তাকারী হিসেবে জড়িত সকল অপরাধী সম্পর্কে পূর্নাঙ্গ ও সত্য ঘটনা প্রকাশ করে সাক্ষ্য গ্রহণের উদ্দেশ্যে ক্ষমা মঞ্জুর করতে পারেন। কার্যবিধির ৩৩৮ ধারা।
রাজ সাক্ষী মিথ্যা সাক্ষ্য দিলে বিচারের পদ্ধতি
সরকারী কেক্সশলী বা বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর যখন প্রত্যয়ন করেন যে, রাজসাক্ষী ইচ্ছাকৃতভাবে অত্যাবশ্যক কোন কিছু গোপন করে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় বা যে শর্তে ক্ষমা করা হয়েছিল সেই শর্ত পালন করে নাই তখন আদালত রাজসাক্ষীর বিচার করতে পারবে। যে অপরাধের বিষয়ে রাজসাক্ষীকে ক্ষমা করা হয়েছিল আদালত সেই অপরাধের বিষয়ে তার বিচার করতে পারবে। তবে শর্ত থাকে যে, রাজসাক্ষীকে অন্যান্য আসামীদের সাথে একত্রে বিচার করা যাবে না। কার্যবিধির ৩৩৯ ধারা।





