অপ্রতুল বিনিয়োগের কারণে চিকিৎসা সেবার মান কাঙ্ক্ষিত স্থানে পৌঁছায়নি: ডা. রফিক

Sanchoy Biswas
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৭:১৮ অপরাহ্ন, ২৫ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৭:১৮ অপরাহ্ন, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতে দুই দশক ধরে বাজেটের বরাদ্দ মোট জিডিপির ১ শতাংশেরও কম—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা ৫ শতাংশ থেকে অনেক দূরে। এই অপ্রতুল বিনিয়োগের কারণে চিকিৎসা সেবার মান কাঙ্ক্ষিত স্থানে পৌঁছায়নি।

সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিসি) আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন’ শীর্ষক এক সংলাপে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও শিক্ষা-এ সংক্রান্ত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে কিছু পক্ষ: সালাহউদ্দিন

তিনি জানান, ৭৭টি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ছয়টিতে এনাটমির অধ্যাপক নেই, ১৬টিতে ফিজিওলজির, ১৭টিতে বায়োকেমিস্ট্রির ও ১৮টিতে ফরেনসিক মেডিসিনের অধ্যাপক নেই। শিক্ষকদের চরম ঘাটতির কারণে প্রতি ১০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক রাখার বাধ্যতামূলক শর্ত মানা হচ্ছে না। ফলে মেডিকেল শিক্ষার মান অবনতির দিকে। একজন দক্ষ চিকিৎসক তৈরির জন্য ভালো শিক্ষক ও ভালো শিক্ষার মান নিশ্চিত করা আবশ্যক।

তিনি আরও বলেন, মেডিকেল এক্রেডিটেশন নিশ্চিত না হলে দেশে অর্জিত ডাক্তারি ডিগ্রি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাবে না। এসব সমস্যার জট খুলতে না পারলে স্বাস্থ্যখাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষ, সেনা মোতায়েন

চিকিৎসকদের নিয়ে সম্প্রতি সরকারের শীর্ষ একজন উপদেষ্টার অবমাননাকর মন্তব্য নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই ধরনের বক্তব্য কি মানুষকে পার্শ্ববর্তী দেশে চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করে না? আমরা এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরে সামাজিক মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি।

ডা. রফিক বলেন, দেশে সরকারি চিকিৎসকের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৪৮,৯০০ জন, আর নার্সের সংখ্যা আরও কম—৪১,১৪৬ জন। অনুপাত অনুযায়ী প্রতি হাজার জনে চিকিৎসক মাত্র ০.৭ জন। তাই রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা পান না। এসব সমস্যার সমাধানে বিএনপির প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য সংস্কার পরিকল্পনায় করণীয় উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ডা. রফিকুল ইসলামের মতে, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। টেকসই গণতন্ত্র থাকলে স্বাস্থ্যখাতসহ প্রতিটি খাতে কাঙ্ক্ষিতভাবে সংস্কার করা সম্ভব। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা হলে সেটি অশনিসংকেত বহন করবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

সংলাপে অংশ নিয়ে এনসিপির ডা. তাসনিম জারা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, অনেক মেডিকেল কলেজে ঠিকভাবে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ নেই—সেদিকে নজর দিতে হবে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জনায়েদ সাকি বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা খাতে নানামুখী সংকট সমাধান করা জরুরি। গণতন্ত্রের পথ সুগম করতে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।

সংলাপে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী গোলাম সারওয়ার মিলন, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ মুষ্টাক হোসেন, শিক্ষাবিদ ও ইতিহাসবিদ ডা. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সিজিসি সভাপতি জিল্লুর রহমান, শিক্ষাবিদ ডা. শওকত আরা হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. মোহাম্মদ কামরুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য ডা. মামুন আহমেদ, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, ল্যাবএইড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ এম শামীম, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. নাজম উদ্দিন আহমেদ, জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান সরদার এ নাঈম, ট্রান্স-ফেমিনিস্ট ও অধিকারকর্মী হো চি মিন ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা বিজ্ঞানের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম, জি-৯ এর মহাসচিব ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্তা, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গবেষণা সহকারী ডা. ডি. কে. শীল আর্পণ।