ইসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ গাজীপুর বিএনপি

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:৫৮ অপরাহ্ন, ২৬ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৭:৪৫ অপরাহ্ন, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

একটি সংসদীয় আসন বাড়ানোয় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রশংসা করেছে গাজীপুরবাসী। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে গাজীপুরের বিএনপির নেতারা।

অন্যদিকে, একটি সংসদীয় আসন কমানোয় শুনানিতে বাগেরহাটবাসী ইসির সমালোচনা করেছে। 

আরও পড়ুন: নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে কিছু পক্ষ: সালাহউদ্দিন

গতকাল আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে ঢাকা অঞ্চলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে গাজীপুরের প্রতিনিধিরা দাবি-আপত্তির শুনানিতে এসে ছোটখাটো অভিযোগ থাকলেও তা উপেক্ষা করে ইসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। 

এসময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনসহ চার নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। ইসি সচিব আখতার আহমেদ সঞ্চালনা করেন শুনানিতে।

আরও পড়ুন: জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষ, সেনা মোতায়েন

শুনানিতে বিএনপি নেতা এ কেএ ম ফজলুল হক মিলন বলেন, “আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল গাজীপুরে আসন বাড়ানোর। সিইসি ও অন্য যে নির্বাচন কমিশনার বর্তমানে রয়েছেন, তারা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতায় আপনার এক নম্বরে রয়েছেন।”

‘বেশি প্রশংসা করব না’ জানিয়ে মিলন ইসির উদ্দেশে বলেন, “আপনারা গাজীপুরবাসীর প্রতি যে বদান্যতা দেখিয়েছেন তাতে আমরা কৃতজ্ঞ, সময়যোপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস এসেছে বিএনপির এই নেতার কাছ থেকে।

মিলন বলেন, “আপনাদের পাশে থেকে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। যে কোনো আন্দোলন, সংগ্রাম বলেন ন্যায় সঙ্গত বিষয়ে সাড়া দেব। অধিকার আদায়ে ইসিকে সহায়তা করব।”

কৃতজ্ঞতার জবাবে শুনানি শেষে মঞ্চ থেকে ইসি সচিব বলেন, আপনারা এসেছেন, এতেই আমরা ধন্য। 

তবে শুনানিতে একটি ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটেছে। গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব চৌধুরি ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকীর পক্ষে একজন আইনজীবী গাজীপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র সীমানা অর্থাৎ শুধু কালিয়াকৈর উপজেলা ও পৌর নিয়ে একটি আসনের বিরোধীতা করেন। এনিয়ে কালিয়াকৈরবাসী ও নেতাকর্মীরা হতবাক হয়েছেন। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান গাজীপুর-১ আসনটি শুধুমাত্র কালিয়াকৈর উপজেলা ও পৌর এলাকা নিয়ে গঠন করার দাবি জানান। মেয়র মজিবুর রহমানের আইনজীবী শুনানিতে বলেন, যেহেতু কাপাসিয়া, কালিগঞ্জ একটি উপজেলা নিয়ে একেকটি সংসদীয় আসন গঠিত। তিনি কালিয়াকৈরেও উপজেলা ও পৌর নিয়ে একটি আসনের সীমা নির্ধারণ চান। মজিবুর রহমান জানান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১২টি ওয়ার্ড গাজীপুর-১ আসনের অর্ন্তভূক্ত থাকলে এলকাবাসীর নানা সমস্যা হবে। তাদের কাজকর্মসহ সব গাজীপুর শহর কেন্দ্রিক। শুনানিতে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকারের আইনজীবীও এটি সমর্থন করেন। এছাড়া গাজীপুর সিটির সংশ্লিষ্ট বাসিন্দারও চান তারা শহরের সাথে সংযুক্ত থাকতে। তারা সংসদীয় আসন গাজীপুর-২ এর সাথে কাশিমপুর ও কোনাবাড়ির অংশ ঢুকানোর দাবি জানান। কিন্তু ইশরাক সিদ্দিকীর আইনজীবীর বক্তব্যে কালিয়াকৈরজুড়ে ক্ষুব বিরাজ করছে।

গত ৩০ জুলাই ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে খসড়া প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এতে ভোটার সংখ্যার সমতা আনতে গিয়ে বাগেরহাটের আসন চারটি থেকে কমিয়ে তিনটির প্রস্তাব করা হয়। আর গাজীপুর জেলায় একটি আসন বাড়িয়ে করা হয় ছয়টি।

শুনানি থেকে বেরিয়ে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, আমাদের কয়েকজন আজকের শুনানিতে বিভিন্ন আসনে থানা, ওয়ার্ড সংযোজনের দাবি দাবি জানিয়েছেন। বাকি সবাই ইসির পক্ষে ছিলাম। আসন বাড়ানোয় আমরা কমিশনকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি। এ সময় বিএনপির সহ শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির কান, সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, নির্বাহী কমিটির সদস্য মজিবুর রহমান, ডা. মাজহারুল আলম, মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার,সাধারণ সম্পাদক এম মঞ্জুরুল করিম রনি, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান, সদস্য সচিব চৌধুরি ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত  ছিলেন।