খাল দখলকারীদের ছাড় নয়, মামলা ও শাস্তির হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

Sadek Ali
মো. রবিউল আওয়াল, কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩:৫৭ অপরাহ্ন, ২৬ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৩:৫৭ অপরাহ্ন, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কেরানীগঞ্জে শুভাঢ্যা খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, খাল দখলকারীদের শুধু উচ্ছেদ নয়, তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

মঙ্গলবার সকালে কেরানীগঞ্জে শুভাঢ্যা খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “যারা সরকারি খাল দখল করেছে বা অবৈধ স্থাপনা গড়েছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। শুধু উচ্ছেদ করলে তারা আবারও দখল করবে তাই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।”

আরও পড়ুন: শেরপুরে শিক্ষার্থী মায়মুনা হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার মূল আসামী আপন ফুফা

তিনি আরও জানান, খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

এদিকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্পে জলদস্যুদের হামলার বিষয়ে বলেন, “মুন্সিগঞ্জে লুট করা অস্ত্র দিয়ে পুলিশের ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় যৌথ বাহিনী দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

আরও পড়ুন: গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০ জন

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৩১৭ কোটিতে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, “অর্থ সাশ্রয় ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতেই এ পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, একসময় প্রাণবন্ত এই খাল বুড়িগঙ্গার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল। স্থানীয় কৃষি, মৎস্যচাষ ও নৌপথে চলাচলের মূল ভরসা ছিল খালটি। কিন্তু গত দুই দশকে দখল, ভরাট, অবৈধ স্থাপনা ও বর্জ্য ফেলার কারণে খালের প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। বর্ষা ছাড়া খালটি পরিণত হয় দুর্গন্ধময় নর্দমায়।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “জনগণের টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। বাস্তবায়নের ধরন পরিবর্তন ও অপ্রয়োজনীয় খাত বাদ দেওয়ায় খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, খাল পুনঃখননের ফলে বর্ষার পানি নিষ্কাশন, কৃষিজমির সেচ সুবিধা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরবে।

স্থানীয়রা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, উদ্ধারকাজ যেন কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা আপসের মাধ্যমে ব্যাহত না হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ, সেনাসদরের ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ মেজর জেনারেল মু. হাসান-উজ-জামান, বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ, নির্বাহী প্রকৌশলী এম. এল. সৈকত, কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিনাত ফৌজিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুল হক ডাবলু, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সৈয়দ মোহাম্মদ আক্তার হোসেন প্রমুখ।