ভূমিকম্প প্রস্তুতি জোরদারে বিশেষজ্ঞদের জরুরি লিখিত পরামর্শ চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:১২ পূর্বাহ্ন, ২৫ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ৮:১২ পূর্বাহ্ন, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সাম্প্রতিক ভূমিকম্প পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের করণীয় বিষয়ে দ্রুত লিখিত পরামর্শ দিতে দেশের শীর্ষ বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত আছে, তবে তা অবশ্যই বৈজ্ঞানিক ও বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ অনুযায়ী হবে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ভূমিকম্প প্রস্তুতি নিয়ে দেশের বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সঙ্গে আয়োজিত জরুরি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। গত শুক্রবার ও শনিবার দেশে কয়েক দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পরই এই বৈঠক ডাকা হয়।

আরও পড়ুন: তারেক রহমানের চীন সফরের অপেক্ষায় চীন সরকার ও জনগণ

বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ জানান, বিশেষজ্ঞরা সভায় বলেন—সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং সচেতনতা ও প্রস্তুতি বাড়ানোই জরুরি। তারা ভূমিকম্প-সংক্রান্ত গুজব ও বিভ্রান্তি রোধে তথ্যভিত্তিক প্রচারের ওপর বিশেষ জোর দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকতে চাই না। আবার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছাড়া কোনো পদক্ষেপও নেব না। তাই আপনাদের পরামর্শ দ্রুত লিখিত আকারে দিন—সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুত।”

আরও পড়ুন: নূর আলী ও বোরাক রিয়েল এস্টেটের বিরুদ্ধে সিআইডির ১১৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

তিনি জানান, ভূমিকম্প প্রস্তুতি জোরদারে বিশেষজ্ঞ কমিটি ও একাধিক টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ চলছে। লিখিত পরামর্শ পেলেই সে অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু হবে।

বিশেষজ্ঞরা বৈঠকে ভূমিকম্প ঝুঁকি মূল্যায়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি, ভবন কাঠামোর নিরাপত্তা যাচাই, মহড়া আয়োজন, খোলা স্থানের তালিকা প্রস্তুত, তরুণদের সম্পৃক্তকরণসহ নানা দিক তুলে ধরেন।

চুয়েট, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপকরা বলেন—স্কুল-কলেজে ভূমিকম্প শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা জরুরি এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে।

গণপূর্ত অধিদপ্তর জানায়, বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে ফাটলধরা ভবন শনাক্তকরণ ও মূল্যায়ন শুরু হয়েছে; ইতোমধ্যে ২০০টির বেশি ভবন পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়—বিশেষজ্ঞদের লেখা সুপারিশ দ্রুত পর্যালোচনা করে টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। সরকারি-বেসরকারি খাতের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরাও এতে যুক্ত থাকবেন।

বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা এবং বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।