দেশে স্বর্ণের বড় অংশই আসছে অবৈধ পথে: এনবিআর চেয়ারম্যান

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪০ পূর্বাহ্ন, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪০ পূর্বাহ্ন, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে ব্যবহৃত ও আমদানি হওয়া স্বর্ণের একটি বড় অংশই অবৈধ পথে প্রবেশ করছে বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, এই চোরাচালান প্রক্রিয়ায় এনবিআরের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সম্পৃক্ততাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআরের নিয়মিত আয়োজন ‘মিট দ্য বিজনেস’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খানের নেতৃত্বে স্বর্ণ ও গহনা খাতের ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন: ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলের সুযোগ নেই: আসিফ নজরুল

অনুষ্ঠানের শুরুতে ব্যবসায়ীরা স্বর্ণ আমদানি, কর কাঠামো, ব্যাংক ঋণ ও নীতিগত জটিলতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, স্বর্ণ ও গহনা খাত দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান, দুর্বল কমপ্লায়েন্স এবং নীতিগত ঘাটতির কারণে সংকটে রয়েছে। এ খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এনবিআর কাজ করছে বলে জানান তিনি।

আবদুর রহমান খান বলেন, যারা প্রকৃত অর্থে বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি করতে চান, তাদের সে সুযোগ দেওয়া উচিত। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এলে এনবিআর প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

আরও পড়ুন: গণভোট নিয়ে পরিকল্পিত মিথ্যাচার ছড়ানো হচ্ছে: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

তিনি আরও বলেন, ব্যবসার প্রকৃত লেনদেন সঠিকভাবে নথিভুক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে টার্নওভার ট্যাক্স আরোপের প্রয়োজন হবে না। সরকার ধাপে ধাপে প্রকৃত মুনাফার ভিত্তিতে কর আদায়ের দিকে যেতে চায়।

স্বর্ণ চোরাচালানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে ব্যবসায়ীদের ঝুঁকি কমবে এবং খাতটির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরাও স্বীকার করেন, দেশে অবৈধ পথে স্বর্ণ প্রবেশ করছে। তবে তারা এই অপবাদ ও জটিলতা থেকে মুক্তি চান।

ব্যবসায়ীদের দাবি, আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা হলে অবৈধ বাণিজ্য কমবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে। চোরাচালানের বদলে ভ্যাট ও ট্যাক্সের আওতায় এসে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে চান তারা। এ লক্ষ্যে বাজুসের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

বাজুসের এক নেতা জানান, অতীতে স্বর্ণ আমদানির জন্য দেওয়া ১৮টি লাইসেন্সের মধ্যে অন্তত ১০টি প্রকৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের ছিল না। এমনকি গহনা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন—এমন ব্যক্তি ও একজন ক্রিকেটারকেও লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করেন।

অন্য ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ব্যাংকগুলো স্বর্ণ ও গহনা খাতে ঋণ দিতে অনাগ্রহী। পাশাপাশি জটিল আমদানি প্রক্রিয়ার কারণে ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশ কিংবা সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ের তুলনায় দেশে প্রতি ভরিতে অন্তত ৩০ হাজার টাকা বেশি দাম পড়ে। ফলে অনেক সময় অবৈধ উৎসের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন তারা।

এ প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, ভ্যাট ও কর কাঠামো পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি স্বর্ণ ও গহনা খাতের জন্য আলাদা একটি ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি, যাতে কর প্রদান সহজ হয় এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।