ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত টহল প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ: সেনাসদর

Sanchoy Biswas
খোদাকাত হাসান
প্রকাশিত: ১০:১০ অপরাহ্ন, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪০ অপরাহ্ন, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রের  আঙিনা পর্যন্ত টহলের অনুমতি পেয়েছে এই বাহিনীরা সদস্যরা। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যালট বাক্স সুরক্ষায় প্রয়োজনে যেকোনো ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে সশস্ত্রবাহিনী। এ লক্ষ্যে সারাদেশে লক্ষাধিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটারদের নিরাপদে কেন্দ্রে যাতায়াত ও আস্থা ফিরিয়ে আনতেই বাড়তি এই মোতায়েন জোরদার করা হয়েছে, যা ২০ জানুয়ারি থেকে কার্যকর রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানে রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কিত বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সেনাসদরের সামরিক অপারেশন্স পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন। এদিকে, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সেনা ক্যাম্পে তিনি অসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সভায় সেনাপ্রধান আসন্ন নির্বাচনে সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে শতভাগ পেশাদারিত্ব এবং নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ২৫টি উপজেলার ১৬টি সংসদীয় আসনে দায়িত্ব পালন করছে। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বিভিন্ন এলাকা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন। এসব পরিদর্শনে নৌবাহিনী প্রধান নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত নৌ কন্টিনজেন্টের সার্বিক কার্যক্রম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন। নির্বাচনে এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, এর আগের নির্বাচনে কত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল, আগের চেয়ে বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হলো কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আগের নির্বাচনগুলোতে আমরা সর্বোচ্চ ৪০-৪২ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এবার এক লাখ সদস্য কেন মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যান্য নির্বাচন থেকে এবারের নির্বাচনে আমাদের সদস্য মোতায়েনের পার্থক্য হচ্ছে, এবার ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আগের নির্বাচনগুলোতে এই অনুমতি ছিল না। আগের নির্বাচনগুলোতে আমরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দূরবর্তী জায়গায় অবস্থান করেছি। এবার সাধারণ ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন, সেটা মাথায় রেখে সেনাবাহিনী প্রধান ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সেনাসদস্যদের রেখে বাকি সব সেনাসদস্যকে নিয়োগ করেছেন সুষ্ঠু ইলেকশন করার জন্য। তিনি বলেন, যে কারণে আমরা চেষ্টা করছি, আমাদের যে প্রয়োজনীয় যানবাহন অপ্রতুল, আমরা অসামারিক প্রশাসনের কাছে সাহায্য চেয়েছি যেন তারা রিকুইজিশন করে আমাদের গাড়ি দেয়। সেটাও যখন দিতে পারছে না তখন আমরা গাড়ি হায়ার করে হলেও সেনাসদস্যরা যাতে টহল দিতে পারে সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেনাসদস্যরা প্রস্তুত এটার জন্য, অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন দিনরাত টহল পরিচালনা করছেন, শুধুমাত্র ভোটারদের আস্থার জায়গাটা ফিরিয়ে আনার জন্য। এটা জোরদার করা হয়েছে গত ২০ জানুয়ারি থেকে।

আরও পড়ুন: ডিইএবি’র গণপূর্ত শাখার আহ্বায়ক আনিসুজ্জামান, সদস্য সচিব শফিউল

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচনের আগেই কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। আর যে কারণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গত ১০ জানুয়ারি আমাদের যে মোতায়েন সংখ্যা ছিল সেটি ৩৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে আমরা ৫০ হাজারে উন্নীত করেছি। পরে ২০ জানুয়ারি ১ লাখ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নৌবাহিনী ৫ হাজার এবং বিমান বাহিনী ৩ হাজার ৭৩০ জন সেনা মোতায়েন করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের সারাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬২টি জেলায় ৪১১টি উপজেলায় এবং মেট্রোপলিটন শহরগুলোতে সর্বমোট ৫৪৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে নিয়মিত টহল যৌথ অভিযান এবং আমরা চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম আমরা চলমান রেখেছি। বিজিবি পুলিশ আনসারের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েনের যে দৃশ্যমান প্রভাব সেটা কিন্তু আপনারা (সাংবাদিক) দেখতে পাচ্ছেন একদিকে অস্ত্র উদ্ধারের সংখ্যা যেমন অনেক গুণ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত ২০ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত অর্থাৎ এই ১৪ দিনে আমরা প্রায় দেড় শতাধিক অস্ত্র উদ্ধার করেছি। যার অধিকাংশই বিদেশি পিস্তল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ১৫২টি অস্ত্র, ২ লাখ ৯১ হাজার গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে এবং ২২ হাজার ২৮২ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং দুষ্কৃতিকারীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। নির্বাচনে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি টেকনোলজি ব্যবহার বা প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে, সুরক্ষা অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে। পুলিশের কাছে বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকছে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো ড্রোন এবং অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার করবে, যাতে দ্রুততম সময়ে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।

নির্বাচনে কোনো দল বা কোনো গোষ্ঠী যদি ব্যালট দখল করতে যায় অথবা ভোট কেন্দ্র দখল করতে যায়, সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কি হবে? পাশাপাশি গত জুলাই বিপ্লবে এখনও পর্যন্ত ১ হাজার ৩৩১টি অস্ত্র উধাও, পুলিশ বলছে তাদের সব অস্ত্র তারা পায়নি, এই অস্ত্রগুলো আগামী নির্বাচনের জন্য ঝুঁকি হিসেবে আপনারা দেখছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, আমরা অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সর্বদা প্রস্তুত আছি। এ কারণেই এবার অন্য বছরের তুলনায় আমরা সর্বাধিক সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েন করেছি যাতে অতি দ্রুততম সময়ে এ ধরনের কোনো ইনসিডেন্ট আসলে সেটা আমরা প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারি। এখনও খোয়া যাওয়া অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা হারিয়ে যাওয়া অস্ত্রগুলোকে উদ্ধার করার জন্য সার্বক্ষণিক আমাদের অভিযান জারি রেখেছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব ও সিভিল প্রশাসন থেকে কবে সেনাবাহিনী আবার ক্যান্টনমেন্টে চলে যাবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সোশ্যাল মিডিয়া শুধু না, এর সঙ্গে যদি আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যোগ করে দিই তাহলে তো এখন আপনারা দেখতে পাচ্ছেন যে, যেকোনো একজনের চেহারা শুধু থাকলেই হলো যেকোনো কিছু তৈরি করা সম্ভব। সেটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্যই আমি আপনাদের (সাংবাদিক) কাছে সাহায্য চেয়েছি যে আপনারা যদি তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো একটা মিথ্যা বা অপতথ্যের প্রচারের আগেই আপনারা যদি বস্তুনিষ্ঠ এবং তথ্যনির্ভর একটা সংবাদ প্রকাশ করেন মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় যেটা, সেখানে যদি এটা নিয়ে আসা যায় তাহলে এটা অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, পাশাপাশি আমরা যেটা চেষ্টা করছি যে, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে যে সমন্বয় সেল তৈরি করা হয়েছে। আমরা কতদিন থাকব নির্বাচনের পরে, এটা একদমই হচ্ছে সরকারের সিদ্ধান্ত। আজকে যে মোতায়েন হয়েছি এটা যেমন সরকারের সিদ্ধান্তে আমরা মোতায়েন হয়েছি, ঠিক একইভাবে আমরা কবে আমাদের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে আমরা ফিরে যাব সেটাও সরকারের সিদ্ধান্ত। 

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সোমবার স্বাক্ষরিত হবে

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন, অসামরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন আরও বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনী। যেখানে সেনা মোতায়েন রয়েছে, সেনাপ্রধান স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেনÑআমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করব। সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তা নিশ্চিত করাই আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। মনজুর হোসেন বলেন, আমরা দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারলে জনগণই সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষতা বুঝতে পারবে। আলাদা করে কিছু প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই। নির্বাচনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ প্রসঙ্গে মনজুর হোসেন জানান, সেনাবাহিনীর জন্য নির্দিষ্ট ‘রুলস অব এনগেজমেন্ট’ রয়েছে। আইনের আওতায় থেকেই সেনাসদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। কোনো পরিস্থিতিতে যদি বলপ্রয়োগ একান্ত প্রয়োজন হয়, তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ধাপে ধাপে বলপ্রয়োগের মাত্রা বাড়ানো হবে। নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রসঙ্গে জামায়াত ও বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন এলেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের একটি সংস্কৃতি দেখা আছে আমাদের। যতক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি না হয় বা তারা হয়রানির শিকার না হয়, ততক্ষণ মাঠ প্রশাসনের সহায়তা চাওয়া হলে সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে সহযোগিতা করবে। নির্বাচনের আচরণবিধি দেখবে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনে নিরপেক্ষ আচরণের নির্দেশ সেনাপ্রধানের: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সেনা ক্যাম্পে তিনি অসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সভায় সেনাপ্রধান আসন্ন নির্বাচনে সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে শতভাগ পেশাদারিত্ব এবং নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধান ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা এবং ধৈর্যের পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে অত্যন্ত বন্ধুসুলভ ও মার্জিত আচরণের মাধ্যমে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের উপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। মতবিনিময় সভায় আসন্ন নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সাভার এরিয়ার জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার, ৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ২২ জানুয়ারি থেকে সেনাপ্রধান দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল যেমন চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, বগুড়া, সিলেট ও সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় করে আসছেন। এর মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী সকল সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন।

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে মাঠ পর্যায় পরিদর্শনে নৌবাহিনী প্রধান: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় বরগুনার ২টি আসন ও ৬ উপজেলাসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ২৫টি উপজেলার ১৬টি সংসদীয় আসনে দায়িত্ব পালন করছে। এ প্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বরগুনা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে নৌবাহিনী প্রধান নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত নৌ কন্টিনজেন্টের সার্বিক কার্যক্রম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন। এরআগে গত বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট- অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কুতুবদিয়া ও সন্দ্বীপ পরিদর্শন করছেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। এ সময় কুতুবদিয়া ও সন্দ্বীপ পরিদর্শনকালে নৌবাহিনী প্রধান অসামরিক প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন অফিসার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ডিজিএফআই, এনএসআই, র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, আনসার এবং নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়। সাধারণ জনগণ যেন কোনো প্রকার ভয়ভীতি ছাড়াই উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। ভোটকেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশনা দেন নৌবাহিনী প্রধান। এছাড়াও, পরিদর্শনকালে তিনি নৌবাহিনী কন্টিনজেন্টের সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন এলাকায় নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক বোটের ব্যবস্থা রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে স্বার্থান্বেষী মহলের যে-কোনো অপতৎপরতা, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক ড্রোন এবং বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকাসমূহে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি নৌবাহিনী নিয়মিত টহল ও ফুট পেট্রোলিং পরিচালনা করছে। উদ্ভূত যে-কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নৌবাহিনীর জাহাজ, হেলিকপ্টার, কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং সোয়াডস টিম সর্বদা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও, আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে নৌবাহিনী। দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকাসমূহে ভোটারগণের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বদ্ধ পরিকর।