তোফাজ্জল হত্যা: ২২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হোসেনকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২৮ আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে পলাতক থাকা ২২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ মামলার চার আসামি বর্তমানে কারাগারে এবং দুই আসামি জামিনে রয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে সংঘটিত বহুল আলোচিত তোফাজ্জল হোসেন হত্যাকাণ্ড মামলায় তদন্তকারী সংস্থার দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচারিক কার্যক্রমের পথ উন্মুক্ত করেছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
আরও পড়ুন: পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৪ কর্মকর্তাকে বদলি করা হলো
মামলার অভিযোগপত্রে মোট ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২ জন পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার চার আসামি—মো. জালাল মিয়া, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ এবং সুমন মিয়া বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ ও ওয়াজিবুল আলম আদালতের দেওয়া জামিনে রয়েছেন।
অভিযুক্তদের অধিকাংশই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক। প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জালাল মিয়া, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ, সুমন মিয়া, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ এবং আশরাফ আলী মুন্সী।
আরও পড়ুন: গণভোটের আগে সংসদ-সংবিধান সংস্কারে আলোচনার পথেই সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মামলার নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত প্রায় পৌনে ৮টার দিকে এক যুবককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের গেটের সামনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে আটক করে। পরে তাকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে হলের মূল ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ওই যুবক নিজের নাম তোফাজ্জল বলে পরিচয় দেন। পরে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন বলে বুঝতে পারার পর তাকে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে খাবার খাওয়ানো হয়। কিন্তু কিছু সময় পর আবার তাকে হলের দক্ষিণ ভবনের একটি গেস্ট রুমে নিয়ে গিয়ে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।
প্রাথমিক তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন, যেখানে ২১ শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়। তবে তদন্তে অসঙ্গতি ও ঘাটতির অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করা হয়।
নারাজি আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে নির্দেশ দেন।
পরে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম পুনঃতদন্ত শেষে গত ১৫ ডিসেম্বর নতুন করে আরও সাতজনকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্র গ্রহণের মধ্য দিয়ে আলোচিত এ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করাই হবে তদন্তকারী সংস্থা ও রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান ।





