দেশে ফিরেছেন ডা. জুবাইদা রহমান

Any Akter
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:১৬ অপরাহ্ন, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১০:১৬ অপরাহ্ন, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সহধর্মিণী, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে তিনি এই সফরে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইটে লন্ডন থেকে যাত্রা করে তিনি সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি করেন।

নির্ধারিত সময়ের আগেই বেলা পৌনে ১১টার দিকে বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ডা. জুবাইদা রহমানকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান তাঁর বড় বোন শাহিনা খান বিন্দু, কন্যা জাইমা রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আমানুল্লাহসহ অন্যরা। কোনো প্রকার সরকারি প্রটোকল ছাড়াই তিনি বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন: বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

এর আগে গত ২২ মার্চ তিনি ঢাকা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন। যাত্রাপথে তিনি যুক্তরাজ্যে যাত্রা বিরতি করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কলিউশন সামিটে অংশগ্রহণের জন্য তিনিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের জীবনসঙ্গীরা অংশ নেন। শিশুদের শিক্ষায় নিরাপদ প্রযুক্তি ও বিকাশই এই জোটের মূল লক্ষ্য।

গত ২৪ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে সম্মেলনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের প্রতি যত্ন, নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা, বাংলাদেশের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রকল্প এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন: ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিতকরণ আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি

তিনি বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান, যাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা যায়।

সম্মেলনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রদর্শন করে। ডা. জুবাইদা রহমান প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন। হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনেও তিনি অংশগ্রহণ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ওয়ার্কিং সেশনে ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের উন্নয়ন বিষয়ক বৈশ্বিক অঙ্গীকারে অংশীদারদের একত্রিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডিকে ধন্যবাদ জানান। 

তিনি বলেন, প্রতিটি জাতির ভবিষ্যৎ তাদের শিশুদের যত্ন, শিক্ষা ও মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল। আজ এই সম্মেলনে অংশ নিতে পারাটা আমার জন্য একটি বিরাট সম্মান।

ডা. জুবাইদা রহমান আরও বলেন, আমার স্বামী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার্স কার্ড’-এর মতো উদ্যোগ চালু করেছে, যা পরিবারগুলোকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে এবং শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে। একজন চিকিৎসক হিসেবে, আমি প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শিক্ষা ও প্রযুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা শিক্ষকদের ও শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল সরঞ্জাম দিয়ে সমৃদ্ধ শিক্ষা নিশ্চিত করছি। এডটেক ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি শিক্ষায় বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নারী ক্ষমতায়নের ঐতিহ্য প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীর অধিকার এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করেছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছিলেন। নারী ক্ষমতায়িত হলে শিশুরা সমৃদ্ধি লাভ করে।

পরিশেষে, মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আমরা একত্রে শিশুদের ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করতে পারি এবং একটি সহনশীল, সহানুভূতিশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারি।