শ্রীপুরে পোশাক কারখানার তিন কর্মকর্তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, কুপিয়ে জখম, গ্রেপ্তার ৫

Sanchoy Biswas
মহিউদ্দিন আহমেদ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:১৩ অপরাহ্ন, ০২ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪৫ অপরাহ্ন, ০২ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুরে ডিবিএল গ্রুপের জিন্নাত নিটওয়্যার লিমিটেড নামের একটি তৈরি পোশাক কারখানার তিন কর্মকর্তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে। অপহরণের পর তাঁদের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ পুলিশের সহযোগিতায় তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মূল হোতা ইমন এখনো পলাতক।

বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামে অবস্থিত জিন্নাত নিটওয়্যার লিমিটেড কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: সংবাদ প্রকাশের জেরে মামলায় কিশোরগঞ্জে এক সাংবাদিক ২৪ দিন ধরে কারাবন্দী

অপহৃত ও আহত কর্মকর্তারা হলেন কাটিং সেকশনের অফিসার নিশাদ (৩৫), মিঠুন (৩২) ও অরূপ কুমার (৩৮)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শাহীন আলম (২৬), নয়ন মিয়া (৩৪), রবিন (৩০), দুলাল মিয়া (৩৩) ও মাহাবুব হোসেন (৩০)। তাঁদের সবার বাড়ি শ্রীপুর উপজেলার ধনুয়া গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা একটি চিহ্নিত অপরাধ চক্রের সদস্য।

আরও পড়ুন: শসা চাষে লোকসান, হতাশায় সিংগাইরের কৃষক

স্থানীয় বাসিন্দা তোরাব আলী বলেন, ‘আজ বক্তব্য দিলে হয়তোবা আমার ক্ষতি হবে। তবুও বলছি, তার ভয়ে এলাকার মানুষ থরথর করে কাঁপে। তার ভয়ে কেউ মুখ খোলে না। যে তার বিরুদ্ধে দাঁড়ায় তাকেই সে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে। বাড়ির পাশে তার টর্চার সেল রয়েছে। সেখানে মানুষের কান্নাকাটির শব্দ শুনছি। ভয়ে বাড়ির দরজা খুলিনি। ভাড়াটেদের নিয়ে ভয়ে ছিলাম রাতে।’

আরেক বাসিন্দা সোহাগ বলেন, ইমনের একটি টর্চার সেল আছে। সেখানে নিয়ে মানুষকে পাষবিক নির্যাতন করা হয়। লোহার রড দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার নামে অন্তত ডজনখানেক মামলা রয়েছে।

গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. এনামুল হক মনি বলেন, খবর পেয়ে কারখানার লোকজন ও পুলিশ সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ইমনের বাড়ির পাশ থেকে তিন কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। তাঁদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কর্মী বলে জানা গেছে। তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কারখানার সামনে থাকা দোকানি মনিরুল ইসলাম বলেন, রাত ১০টার দিকে তিন কর্মকর্তা চায়ের দোকানে আসেন। এ সময় কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে তাঁদের মারধর করে তুলে নিয়ে যায়। চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে, তবে ততক্ষণে তাঁদেরকে নিয়ে অপহরণকারীরা চলে যায়।

জিন্নাত নিটওয়্যার লিমিটেড কারখানার এইচআর অ্যাডমিন মাহামুদুল হুদা বলেন, তিন কর্মকর্তা প্রধান ফটকের সামনে চা-নাশতা করতে গেলে কয়েকজন এসে তাঁদের তুলে নিয়ে যায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। প্রায় ৩ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর ইমনের বাড়ির পাশ থেকে তাঁদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর তাঁদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে অভিযান চালিয়ে তিন কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি আরও জানান, রাতভর অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।