আরো কয়েকটি জ্বালানি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে, পাম্পে দীর্ঘ অপেক্ষায় ক্রেতারা

Sadek Ali
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৩ অপরাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে জ্বালানি তেলের সরবরাহ চেইনে একদিকে দৃশ্যমান গতি, অন্যদিকে বাজারে স্থায়ী অস্থিরতা—এই দ্বৈত বাস্তবতা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি নিয়ে একাধিক ট্যাংকার জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙর ও জেটিতে অবস্থান করলেও খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে না; বরং রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় অকটেন ও ডিজেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, জেট ফুয়েলবাহী চীনা পতাকাবাহী জাহাজ ‘শিং তং ৭৯৯’ শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আনা ৩৪ হাজার ৬৬৭ টন জেট ফুয়েল নিয়ে আসা এ জাহাজ থেকে দৈনিক গড়ে আড়াই হাজার টন চাহিদা বিবেচনায় প্রায় দুই সপ্তাহের জ্বালানি চাহিদা পূরণ সম্ভব বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: উচ্ছেদ হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

এর আগে সিঙ্গাপুর থেকে ১১ হাজার টন জেট এ-১ জ্বালানি নিয়ে ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ ট্যাংকার বন্দরে আসে। একইসঙ্গে তাইওয়ান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা আরও দুটি বড় ট্যাংকার—‘এমটি কোয়েটা’ ও ‘প্রিভে অ্যাঞ্জেল’—ডিজেল নিয়ে বহির্নোঙরে ভিড়েছে, যেগুলো থেকে ডলফিন জেটিতে খালাস কার্যক্রম চলছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) বলছে, জ্বালানি সরবরাহে আপাতত কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি আসায় মজুত পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক। একইসঙ্গে ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজও যাত্রা শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

তবে বন্দর কার্যক্রমে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ওভার-সাইজ জাহাজ সরাসরি জেটিতে ভেড়ানো না যাওয়ায় কুতুবদিয়া এঙ্করেজে লাইটারিং পদ্ধতিতে ছোট জাহাজে তেল স্থানান্তর করতে হচ্ছে। মাত্র দুটি ডলফিন জেটি সক্রিয় থাকায় খালাসের গতি চাহিদার তুলনায় কম। এতে করে বহির্নোঙরে একাধিক জাহাজ অপেক্ষমাণ থাকছে, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে বিলম্ব তৈরি করছে।

স্থানীয় শিপিং এজেন্টদের মতে, দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি, নতুবা আমদানি বাড়লেও বাজারে তার প্রতিফলন মিলবে না।

অন্যদিকে, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে অকটেনের জন্য দীর্ঘ লাইন এখন নিত্যদিনের দৃশ্য। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।

সরকার যেখানে পর্যাপ্ত মজুতের কথা বলছে, সেখানে ডিলাররা সরবরাহ কম পাওয়ার অভিযোগ তুলছেন। আবার ভোক্তাদের অভিযোগ—কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারে অস্থিরতা বাড়ানো হচ্ছে। ফলে জ্বালানি খাতে ক্রেতা, বিক্রেতা ও সরবরাহকারী—এই তিন পক্ষের পারস্পরিক দোষারোপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় সংসদে জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে ২৫ হাজার ৪২৩ টন অকটেন মজুত রয়েছে। তবুও কেন এই সংকট প্রকট—তা নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি করলেও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতিই বর্তমান ভোগান্তির মূল কারণ।

এই প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সমন্বিত তদারকি জোরদার না হলে আমদানি বাড়িয়েও বাজার স্থিতিশীল রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।