বন্ধ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিদ্যুৎ সংকটে উত্তরাঞ্চল

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৫০ অপরাহ্ন, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৪:৫০ অপরাহ্ন, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টা ১০ মিনিটে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটই অচল হয়ে পড়ে। এতে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের অন্তত ৮ জেলায় বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, কয়লার সঙ্গে পাথর মিশে যাওয়ায় ১ নম্বর ইউনিটের বয়লার পাইপ ফেটে যায়। ফলে রাতেই উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, মেরামত কাজ চলছে এবং পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগতে পারে।

আরও পড়ুন: মোবাইল ফোনে বন্ধুত্বের ফাঁদে ফেলে ছিনতাই, নারীসহ গ্রেপ্তার ৫

এর আগে কেন্দ্রটির ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিট ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে এবং ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিট ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। ফলে বর্তমানে কেন্দ্রটির মোট ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা পুরোপুরি অচল।

২০০৬ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির পাশে এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি গড়ে ওঠে। পরে ২০১৭ সালে তৃতীয় ইউনিট চালু হলেও নানা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কখনোই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: বছরের শেষে চালু হতে পারে শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল

এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ। উৎপাদিত কয়লা সংরক্ষণের জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানান, প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৭০০ টন কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। যেখানে ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ২ লাখ ২০ হাজার টন, সেখানে বর্তমানে মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টন। বিকল্প স্থানে কয়লা সংরক্ষণের চেষ্টা চলছে।

সাধারণত কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিট চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ২০০ টন কয়লা প্রয়োজন হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ইউনিটগুলো বন্ধ থাকায় বিপুল পরিমাণ কয়লা জমে রয়েছে।

জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত থাকলেও উত্তরাঞ্চলে চাহিদা পূরণে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমানে কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় দিনাজপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েছে।

এদিকে তাপপ্রবাহের মধ্যে ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। এর মধ্যেই ঘনঘন লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।