রূপপুরে আজ শুরু ইউরেনিয়াম লোডিং, পরমাণু বিদ্যুতের যুগে বাংলাদেশ

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২৪ পূর্বাহ্ন, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৪ পূর্বাহ্ন, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘ এক দশকের প্রস্তুতি, অবকাঠামো নির্মাণ ও কারিগরি সক্ষমতা অর্জনের পর অবশেষে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে শুরু হচ্ছে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম।

গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়ার পর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।

আরও পড়ুন: দেশে ইনসুলিন কার্ট্রিজের উৎপাদন ওষুধে স্বনির্ভরতা অর্জনে ভূমিকা রাখবে: স্বাস্থ্য মন্ত্রী

এ উপলক্ষে রোসাটম-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সরকারি সূত্র জানায়, তিনি ঢাকায় তারেক রহমান-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে হেলিকপ্টারে করে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় যাবেন।

অনুষ্ঠানে ফকির মাহবুব আনামসহ বাংলাদেশ ও রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

আরও পড়ুন: রূপপুরে ইউরেনিয়াম স্থাপন: পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশ, বিশ্বের ৩৩তম দেশ

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশনা ও কারিগরি শর্ত পূরণে বিলম্বের কারণে এর আগে কয়েকবার সময় নির্ধারণ করেও জ্বালানি লোডিং শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে সব প্রস্তুতি শেষে এখন সম্পূর্ণভাবে তৈরি প্রথম ইউনিট। এ কার্যক্রমে অংশ নিতে ইতোমধ্যে ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ অপারেটিং লাইসেন্স পেয়েছেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন জানান, জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতেই প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন শুরু হলে এ ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই কেন্দ্রটিতে আধুনিক VVER-1200 reactor technology প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার বড় অংশ পূরণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।