আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: তদন্ত প্রতিবেদন ৩ জুন

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৫৮ অপরাহ্ন, ৩০ মে ২০২৬ | আপডেট: ২:৫৮ অপরাহ্ন, ৩০ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আগামী ৩ জুন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। শনিবার (৩০ মে) রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন শনিবার জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সন্তানহারা মায়েদের বক্তব্য এখনো গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে তদন্ত কমিটিকে আরও তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে পুতিনের অভিনন্দন

তিনি বলেন, “সব পক্ষের বক্তব্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আগামী ৩ জুন জমা দেওয়া হবে। এরপর প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রাথমিক তদন্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, একজন মায়ের অনুরোধে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে প্রায় দুই ঘণ্টা এসি বন্ধ রাখা হয়েছিল। রাত ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ওই সময়ে কোনো বিকল্প ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ছিল না বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন: ‘মক্কা চুক্তি’ আলোচনার মধ্যে সৌদি যুবরাজকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

তবে এসব তথ্য এখনো চূড়ান্ত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়গুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য উঠে আসবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “কোনো ধরনের গাফিলতি, দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

তদন্তকারী দল হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসাসেবার মান, ওয়ার্ডের পরিবেশ, ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা পর্যালোচনা করছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মে দিবাগত রাতে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ১১ জন মা ও ৬ নবজাতক ভর্তি ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এক মায়ের অনুরোধে কিছু সময়ের জন্য এসি বন্ধ রাখা হয়। পরে এসি চালু করার পর কয়েকজন নবজাতকের শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে ছয়জনই মারা যায়।

ঘটনার পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। নবজাতকদের মরদেহ স্বজনদের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।