জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Any Akter
রিদুয়ান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১২:২৮ অপরাহ্ন, ৩১ মে ২০২৬ | আপডেট: ২:১৬ অপরাহ্ন, ৩১ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকাকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই অঞ্চলকে আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী বা অপরাধী চক্রের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া হবে না।

রবিবার (৩১ মে) সকালে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকা সশরীরে পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: জিয়ার শাহাদত বার্ষিকীতে পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের শ্রদ্ধা নিবেদন

জঙ্গল সলিমপুরের আশপাশের ভৌগোলিক অবস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর আশপাশে বেতুয়া এবং চা-বাগান নামে দুটি পাহাড়-টিলা শ্রেণি রয়েছে। এই দুর্গম এলাকাগুলোতেও অপরাধীদের আনাগোনা ও তৎপরতা রয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন এবং সেখান থেকেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব ধরনের সন্ত্রাসীদের উচ্ছেদ করা হবে।

পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান এবং এলজিইডিসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ।

আরও পড়ুন: আদ-দ্বীন হাসপাতালে বেকারির সন্ধান, ক্ষোভ প্রকাশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

দেশজুড়ে চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার বর্তমানে মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া এবং চাঁদাবাজি—এই চার প্রধান অপরাধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যৌথ ও সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে নির্মূলের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় অপরাধীদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এই প্রসঙ্গে তিনি পুরোনো আইন সংশোধনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ১৮৬৭ সালের প্রাচীন জুয়া আইন দিয়ে বর্তমানের আধুনিক ও অনলাইন জুয়া, অফলাইন বেটিং বা মডার্ন জুয়া নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। আইনি কাঠামোর এই দুর্বলতা দূর করতে আগামী সংসদ অধিবেশনেই নতুন ও শক্তিশালী জুয়া আইন পাসের জন্য বিল উত্থাপন করার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে মাদক আইনের সংশোধনী এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে, যার ফলে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা হাজার হাজার মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে এবং দেশের যুবসমাজ রক্ষা পাবে।

বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় সামাজিক ব্যাধি ‘কিশোর গ্যাং’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিশোর অপরাধের আইনি ফাঁকফোকর গলিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে এবং পরবর্তীতে তারা আক্রমণাত্মক ও ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীতে পরিণত হচ্ছে। তাই কিশোরদের বয়স ও সুবিধার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে এখানে দ্রুত আইনি সংস্কার আনা প্রয়োজন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং দেশে শতভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আইনশৃঙ্খলার এই আধুনিকায়ন ও পরিকল্পিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।