মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে অনুমোদন পেল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১২:৪১ অপরাহ্ন, ১১ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৬:৫৯ অপরাহ্ন, ১২ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে শিক্ষা ও আর্থিক স্বাবলম্বিতা জরুরি: রিজভী

অনুমোদন পাওয়ার পর বিকেলে জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বাজেট প্রস্তাবটি সংসদে পেশ করা হবে।

এটি বাংলাদেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট উপস্থাপন।

আরও পড়ুন: তরুণরা চাইলে দেশটাকে পরিবর্তন করা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেট প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাভ করে। পরে রাষ্ট্রপতির সম্মতির মাধ্যমে এটি চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছরের বাজেট কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার প্রথম জাতীয় বাজেট থেকে দেশ এখন প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। অর্থনীতির সম্প্রসারণ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিস্তার এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিফলন ঘটেছে এই বাজেট প্রবৃদ্ধিতে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের এটি প্রথম বাজেট। সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়া।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তার মাধ্যমে।

বাজেট ঘাটতি প্রায় ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা হতে পারে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমপরিমাণ।

অর্থায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।