শোবিজে নতুন দিগন্তের খোঁজে কনিকা

Shahrier Islam Pallab
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:০১ অপরাহ্ন, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৬ অপরাহ্ন, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কনিকা আক্তার। ছবিঃ সংগৃহীত
কনিকা আক্তার। ছবিঃ সংগৃহীত

জীবনের গতিপথ সবসময় এক রেখায় চলে না। কোনো এক পথ বন্ধ হলে খুলে যায় নতুন সম্ভাবনার দরজা। নারায়ণগঞ্জ জেলার সন্তান কনিকা আক্তার ঠিক এই সত্যটিকেই লালন করেছেন নিজের জীবনে। ছোটবেলায় সাংবাদিক কিংবা শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও, সময়ের পরিক্রমায় তিনি নিজেকে কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ে সীমাবদ্ধ রাখেননি। আত্মবিশ্বাস ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার এক অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প তৈরি করেছেন তিনি।

শোবিজ অঙ্গনে কাজের পূর্বে কোনো সরাসরি পেশাদার অভিজ্ঞতা না থাকলেও, নিজের দক্ষতা, উপস্থাপনা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির দারুণ এক প্ল্যাটফর্ম খুঁজে পেয়েছেন তিনি। প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আত্মপ্রকাশ করতে নাম লিখিয়েছেন ‘মিস অ্যান্ড মিসেস এলিজেন্স বাংলাদেশ সিজন ২’-এ। নিজের প্রতিভা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে ইতিমধ্যেই প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: বাঁধনকে ঘিরে ঘটনায় পিয়া জান্নাতুলের ক্ষোভ

কনিকার মতে, নারীর সৌন্দর্য কেবল বাহ্যিক রূপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিমত্তা ও মানবিক ইচ্ছাই তার আসল পরিচয়। এই আয়োজন তার কাছে কেবল খেতাব অর্জনের লড়াই নয়, বরং নিজেকে আরও পরিপক্ব করে তোলার এক আত্মোপলব্ধির সুযোগ।

শোবিজ অঙ্গনে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও বহুবিদ দক্ষতার পরিচয় দিয়ে নজর কেড়েছেন কনিকা। বর্তমানে একটি প্রখ্যাত বেসরকারি ফ্যাশন ব্র্যান্ড কোম্পানিতে পেশাদার ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত আছেন। একই সাথে একজন পেশাদার মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজের পাশাপাশি অন্যদের এই শিল্পে দক্ষ করে তুলছেন। রূপচর্চা, খাদ্যশিল্প, ডিজিটাল বিপণন ও পারফিউম তৈরির মতো বৈচিত্র্যময় বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি অবলা প্রাণীদের ভালোবাসে একজন পশুপালন নার্স হিসেবেও কাজ করছেন তিনি। প্রতিটি অর্জনকেই তিনি নিজের আত্মউন্নয়ন ও শোবিজে নিজেকে সমৃদ্ধ করার মাধ্যম হিসেবে দেখেন।

আরও পড়ুন: ভেনিসে বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় ডাকসুর প্রতিবাদ

নিজের এই অর্জিত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে ভবিষ্যতে জনকল্যাণে কাজে লাগাতে চান কনিকা আক্তার। প্রান্তিক যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল করা, কৃষকদের ফসলের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা এবং সর্বস্তরের মানুষের জন্য সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার মহৎ স্বপ্ন রয়েছে তার। ‘শেখার কোনো শেষ নেই’—এই বিশ্বাস নিয়ে নিজের পথচলা নিয়ে কনিকা বলেন, ‘আমি কোনো সমাপ্ত গল্প নই, আমি আজও নিজেকে তৈরি করে চলেছি।’ নতুনত্বের সন্ধানে তার এই নিরন্তর প্রচেষ্টা শোবিজ অঙ্গনেও তাকে অনন্য এক রূপদান করবে বলে আশা করা যায়।