শরীয়তপুরে চুরি মামলায় ৫ জন গ্রেপ্তার, ১৬ লাখ টাকার স্বর্ণ উদ্ধার

Sadek Ali
মিরাজ পালোয়ান, শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ৯:৪২ পূর্বাহ্ন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপারা ইউনিয়নের গয়ঘর  এলাকা থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার সহ চোর চক্রের   পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পালং মডেল থানার পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ লাখ টাকা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ৪ টার দিকে পালং মডেল থানায় এক প্রেস বিফিং করে এ তথ্য জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহ আলম। 

আরও পড়ুন: শ্যামনগরে হাটু পানিতে ডুবে আছে একাধিক বিদ্যালয় ও কবরস্থান

পুলিশ জানায়, গত ২৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টার দিকে পালং মডেল থানাধীন গয়ঘর খলিফাকান্দি এলাকায় একটি বসতঘরের দরজার তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটে। এর আগে ২২ আগস্ট বিকেলে ওই বাড়ির মালিক ঢাকার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন।

চোরেরা ঘরে প্রবেশ করে একটি ট্রাংকের তালা ভেঙে নগদ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং গলার হার, চেইন, কানের দুল, হাতের বালা ও অন্যান্য স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের মূল্য প্রায় ১৫ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রায়পুরে স্বামী-স্ত্রীসহ ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের কয়েকজন সদস্য আটক

এ ঘটনায় ২৭ আগস্ট পালং মডেল থানায় ৪৫৭/৩৮০/৩৪ ধারায় মামলা করা হয়। মামলা নম্বর ৪৪ এবং জিআর নম্বর ৩০৭।

মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে পালং মডেল থানাধীন শৌলপাড়া এলাকা থেকে আতাহার মাদবর (৩৬), সুমন সরদার (৩০), মো. রুবেল বেপারী (৩০), মো. সাগর খলিফা (২৮) ও শিপলু খান (৪৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার আতাহার মাদবরের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে শৌলপাড়া বাজারের ‘সুস্মিতা শিল্পালয়’ নামের একটি স্বর্ণের দোকান ও তার বাসা থেকে চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তে পাওয়া সুমন পাল (৩২) নামে আরও একজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গঙ্গানগর স্বর্ণকার পট্টির ‘মা জুয়েলার্স’ এবং তার বাসায় অভিযান চালিয়ে আরও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা স্বর্ণের মধ্যে রয়েছে একটি বড় চেইন, তিনটি মাঝারি চেইন, ছোট-বড় সাতটি আংটি, সাত জোড়া কানের দুল, একটি ব্রেসলেট/বেইচ লাইট, একটি গলার নেকলেস, একটি চেইনের লকেট এবং তিনটি গলানো স্বর্ণের টুকরা।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন জেলায় চুরির ঘটনায় জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তবে এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মামলার ছয় নম্বর আসামি রবিন খলিফা (২৭) বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া অবশিষ্ট স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।