কম বয়সেই চুল পড়ছে? যে কারণগুলো দায়ী হতে পারে

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪৪ অপরাহ্ন, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১২:৪৫ অপরাহ্ন, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চুল পড়া মানেই বয়স বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ—এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং বর্তমানে ২০-এর কোঠাতেই অনেক তরুণ-তরুণীর চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়া, ভলিউম কমে যাওয়া, চুলের ডগা ফেটে যাওয়া কিংবা অতিরিক্ত চুল পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে চুলের যত্ন নিয়ে আগের প্রজন্মের তুলনায় জেন-জি তরুণদের মধ্যে উদ্বেগও বেশি দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প বয়সে চুল পড়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। শুধু প্রসাধনী ব্যবহার করলেই সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে। জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এবং চুলের ওপর অতিরিক্ত রাসায়নিক ও তাপ প্রয়োগের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন: থাইরয়েড ঠিকমতো কাজ করছে না, শরীরে দেখা দিতে পারে যে ৯ লক্ষণ

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ

পড়াশোনা, চাকরি, আর্থিক দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং দীর্ঘ সময় অনলাইনে থাকার অভ্যাস মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের প্রভাব চুলের ওপরও পড়তে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম নামের একটি সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি সংখ্যক চুলের ফলিকল দ্রুত নিষ্ক্রিয় পর্যায়ে চলে যায় এবং অতিরিক্ত চুল পড়তে পারে। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ডার্মাটোলজি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, তীব্র মানসিক চাপের পর টেলোজেন এফ্লুভিয়াম হতে পারে।

আরও পড়ুন: ব্যস্ততার মাঝেও ত্বকের যত্ন, সুস্থ ত্বকের জন্য ৫ সহজ অভ্যাস

তাই চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিলে শুধু চুলের যত্নের পণ্য পরিবর্তন না করে সাম্প্রতিক জীবনযাত্রা ও মানসিক চাপের বিষয়টিও খেয়াল করা প্রয়োজন।

পুষ্টির ঘাটতিও হতে পারে কারণ

দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা, ক্র্যাশ ডায়েট কিংবা অপর্যাপ্ত খাদ্যাভ্যাস চুলের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি হলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন রয়েছে কি না, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

অতিরিক্ত স্টাইলিংয়ে চুল ভেঙে যেতে পারে

সব ধরনের চুল পড়ার কারণ দুর্বল চুলের ফলিকল নয়। অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং, ব্লিচ বা বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার, ঘন ঘন চুলে রং করা এবং নিয়মিত স্ট্রেটনার বা কার্লিং আয়রন ব্যবহারের কারণে চুলের গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ছাড়া খুব টাইট করে চুল বাঁধা, হেয়ার এক্সটেনশন ব্যবহার কিংবা দীর্ঘ সময় স্লিকড-ব্যাক হেয়ারস্টাইল করার কারণেও চুলের ওপর চাপ পড়তে পারে। এর ফলে চুল গোড়া থেকে না পড়ে মাঝখান বা ডগা থেকে ভেঙে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আরও যেসব কারণে চুল পড়তে পারে

অল্প বয়সে চুল পড়ার পেছনে আরও কিছু কারণ থাকতে পারে। যেমন—

  • মাথার ত্বকে সংক্রমণ
  • হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
  • বংশগত কারণ
  • ভুল প্রসাধনী ব্যবহার
  • অতিরিক্ত কেমিক্যালের ব্যবহার

তাই হঠাৎ করে অতিরিক্ত চুল পড়া শুরু হলে শুধু প্রসাধনী ব্যবহার না করে সমস্যার সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।