বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট আজ
দীর্ঘ দুই দশক পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পর আজ প্রথম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট। এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট। একই সঙ্গে বিএনপি সরকারের সামগ্রিকভাবে ১৩তম জাতীয় বাজেট হিসেবে এটি সংসদে উপস্থাপিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: আদ্-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতালের জবাবে সন্তুষ্ট নয় সরকার
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় আগামী অর্থবছরে সরকারি ব্যয় প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। মোট ব্যয়ের মধ্যে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা পরিচালন ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।
রাজস্ব আহরণ বাড়াতে বাজেটে বেশ কয়েকটি নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব থাকছে। এর মধ্যে ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব খুলতে বাধ্যতামূলকভাবে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) গ্রহণ, খুচরা বিক্রেতাদের সরবরাহের ওপর ০.২০ শতাংশ অগ্রিম কর এবং ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য অভিন্ন টার্নওভার কর আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকার খাল পুনরুদ্ধারে সীমানা চিহ্নিতকরণে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত
করজাল সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ছাত্র এবং সরকারি গেজেট দ্বারা অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া সকলের ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। টিআইএনধারীদের প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে, অন্যথায় জরিমানার বিধান থাকবে।
এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক, ইউটিলিটি সেবা ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যভাণ্ডারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে কর ফাঁকি রোধ ও করজাল সম্প্রসারণ সহজ হয়।
অন্যদিকে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সহজ করা, অডিটের সময়সীমা এক বছর থেকে তিন বছরে উন্নীত করা এবং অফডক ও আইসিডি খাতে বিদেশি মালিকানার সীমা প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সবুজ পরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে বৈদ্যুতিক গাড়ির আমদানি ও উৎপাদনে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব গাড়ির নিবন্ধন ফি দুই লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের পাশাপাশি আমদানি শুল্কও কমানো হতে পারে। বিপরীতে পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ির আমদানি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে কৃষি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ প্রায় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে। তালিকায় রয়েছে ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ, মাছ, মাংস, হাঁস-মুরগি এবং বিভিন্ন কৃষিপণ্য।
এছাড়া শিশুখাদ্য আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। সব ধরনের মসলা ও খেজুর আমদানিতে রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার করা হতে পারে। স্বাস্থ্য খাতে হার্টের স্টেন্ট, চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্স এবং ডায়ালাইসিস ফিল্টারের ওপর শুল্ক ও ভ্যাট কমানো বা প্রত্যাহারের ফলে চিকিৎসা ব্যয়ও কমতে পারে।
প্রযুক্তি খাতে মোবাইল সিমের ওপর বিদ্যমান কর প্রত্যাহার এবং ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে শুল্ক-ভ্যাট মওকুফের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র এবং সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরার ওপর শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের মতে, করের হার বৃদ্ধি না করে করের আওতা সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় পণ্যে কর ছাড় প্রদানের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমবে, মূল্যস্ফীতির চাপ হ্রাস পাবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।





