বিশ্বকাপ ঘিরে মেক্সিকোতে মাদক ও যৌনবাণিজ্য জমজমাট

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২২ পূর্বাহ্ন, ০৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১:০২ অপরাহ্ন, ০৬ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় যখন মুখর পুরো বিশ্ব, ঠিক তখনই অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে সামনে আসছে এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা। আসন্ন বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশটিতে মানবপাচার ও জোরপূর্বক যৌন বাণিজ্যের বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম ও অপরাধবিষয়ক গবেষকরা।

মেক্সিকোর অন্যতম শীর্ষ জাতীয় দৈনিক *মিলেনিও*-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুখ্যাত মাদক কার্টেল ও অপরাধী চক্রগুলো বিশ্বকাপকে অবৈধ আয়ের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। লাখ লাখ বিদেশি পর্যটক ও ফুটবলপ্রেমীর আগমনকে কেন্দ্র করে মানবপাচার এবং যৌন শোষণের নেটওয়ার্ক আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: সুদানে নিহত ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর দাগ হ্যামারশোল্ড পদক প্রদান

এবারের বিশ্বকাপে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে ১৩টি ম্যাচ। খেলাগুলো আয়োজন করা হবে দেশটির তিনটি প্রধান শহর—মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মন্তেররেইয়ে। গবেষকদের মতে, এসব শহরের যৌন বাণিজ্য ও মানবপাচারের রুটগুলোর বড় অংশ বর্তমানে সংগঠিত অপরাধী চক্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গুয়াদালাহারা শহরটি দীর্ঘদিন ধরে হালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি)-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে যৌনকর্মীদের নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয়। অন্যদিকে মন্তেররেইয়ে অঞ্চলে নর্থইস্ট কার্টেল ও সিনালোয়া কার্টেলের প্রভাব বিস্তার করেছে। বিশেষ করে বারিও আন্তিগুয়ো এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন ব্যবসা সম্প্রসারিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: অরুণাচল প্রদেশে ১৫টি মসজিদ সিলগালা করলো বিজেপি

রাজধানী মেক্সিকো সিটিতেও মানবপাচার ও জোরপূর্বক যৌন বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অপরাধী গোষ্ঠীর সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। দেশটির আরেক সংবাদমাধ্যম *অ্যানিমেল পলিটিকো*-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সক্রিয় শীর্ষ অপরাধী চক্রগুলোর অধিকাংশই জোরপূর্বক দেহ ব্যবসা থেকে বিপুল মুনাফা অর্জন করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক ব্যবসার পাশাপাশি মানবপাচার এখন মেক্সিকান কার্টেলগুলোর অন্যতম বড় আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিকভাবে জোরপূর্বক যৌন শোষণ ও মানবপাচার সংশ্লিষ্ট অবৈধ অর্থনীতির মূল্য বছরে প্রায় ৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের সময় বিপুল সংখ্যক পর্যটকের উপস্থিতি অপরাধী চক্রগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে। ফলে মানবপাচার, যৌন শোষণ এবং সংগঠিত অপরাধ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।


### মেটা টাইটেল



### মেটা কি ওয়ার্ড




### মেটা ডেস্ক্রিপশন