বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে তেহরান, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর পাল্টা জবাব হিসেবে এই অভিযান চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল সালেম ও আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা ইরানের, তেলবাজারে নতুন উদ্বেগ
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের জবাবে এ হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত দুটি ট্যাংকার জাহাজেও অভিযান চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর নির্দেশে ইরানের সামরিক অবকাঠামো, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা হুমকি ও একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ১৭ বছর প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া বিমান পরিচালনার অভিযোগে পাইলট গ্রেপ্তার
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কিছু এলাকায় হতাহতের খবরও পাওয়া গেছে।
এদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা বহাল থাকবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত এই প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা-পাল্টা হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। যদিও উভয় পক্ষই প্রকাশ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেনি, তবে ধারাবাহিক সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।





