এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক বদলি কার্যক্রম শুরু,আবেদন অনলাইনে

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৫১ অপরাহ্ন, ০৩ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১:৫১ অপরাহ্ন, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে প্রথমবারের মতো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বদলি কার্যক্রম চালু করেছে সরকার। নতুন নীতিমালার আওতায় এখন থেকে একই পদে শূন্য পদ থাকা সাপেক্ষে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করে পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলি হতে পারবেন শিক্ষকরা।

এ লক্ষ্যে সরকার ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ জারি করেছে। নীতিমালাটি দেশের বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

আরও পড়ুন: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের প্রতীক: ঢাবি উপাচার্য

নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নির্ধারিত সময়ে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করবে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে বদলির আবেদন গ্রহণ করা হবে। প্রতিবছর সরকারি প্রজ্ঞাপনে আবেদন, বদলির আদেশ এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

প্রথম নিয়োগের পর টানা দুই বছর চাকরি সম্পন্ন করলে একজন শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারবেন। একইভাবে বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর পুনরায় আবেদন করতে হলেও সেখানে কমপক্ষে দুই বছর কর্মরত থাকতে হবে। একজন শিক্ষক তাঁর চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন।

আরও পড়ুন: সমকামিতার অভিযোগ তদন্তের বৈঠক চলাকালে ঢাবির শহীদুল্লাহ হলে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ

নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদনকারী প্রথমে নিজ জেলার শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় শূন্য পদ না থাকলে নিজ বিভাগের অন্য জেলার প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা যাবে। বিশেষ ক্ষেত্রে দেশের যেকোনো জেলা অথবা স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল-সংক্রান্ত জেলায়ও বদলির আবেদন করার সুযোগ থাকবে।

একটি শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক আবেদন জমা পড়লে নারী প্রার্থী, কর্মস্থলের দূরত্ব, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। দূরত্ব নির্ধারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুসৃত পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যযুক্ত আবেদন সরাসরি বাতিল করা হবে।

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বদলির সুযোগ পাবেন। তবে একই বিষয়ে একজনের বেশি শিক্ষক বদলি হতে পারবেন না। আবেদনকারী সর্বোচ্চ তিনটি কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে পারবেন।

বদলির আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব থাকবে মাউশির মহাপরিচালকের ওপর। পুরো কার্যক্রম নির্ধারিত স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। বদলি হওয়া শিক্ষকের এমপিও, আর্থিক সুবিধা এবং জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকবে।

তবে নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বদলিকে কোনো শিক্ষকের অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না। বদলির ক্ষেত্রে টিএ-ডিএ ভাতা প্রদান করা হবে না। বদলির আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান শিক্ষককে অবমুক্ত করবেন এবং অবমুক্তির পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।

এ ছাড়া যেসব শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন অথবা যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলমান, তারা বদলির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।

মাউশির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শূন্য পদের সংখ্যার ভিত্তিতেই বদলির সুযোগ দেওয়া হবে। তবে আবেদন নীতিমালায় নির্ধারিত ভৌগোলিক সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।