নারায়ণগঞ্জ-কুমিল্লা কর্ডলাইন হলে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটে কমবে সময়: প্রতিমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৫৮ অপরাহ্ন, ০১ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৭:৫৮ অপরাহ্ন, ০১ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত নতুন কর্ডলাইন নির্মাণ করা হলে বর্তমান রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে যাবে। একই সঙ্গে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ট্রেনে যাতায়াতের সময়ও প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট কমিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন রেলপথটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেনের যাত্রাসময় প্রায় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

তবে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন এখনো সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। ফিজিবিলিটি স্টাডির ফলাফল এবং পরবর্তী নির্মাণকাজের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে এর চূড়ান্ত রূপ ও সময়সীমা।

আরও পড়ুন: আগামী সপ্তাহেই বাংলাদেশে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ প্রতিষ্ঠানের ৪৫ শীর্ষ ব্যবসায়ী

শনিবার বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগে নতুন করিডোর

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একগুচ্ছ বার্তা

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে রেলপথের দূরত্ব কমিয়ে আনার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত নতুন একটি কর্ডলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ বর্তমানে চলছে।

তিনি বলেন, নতুন এই কর্ডলাইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের বর্তমান দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে আসবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে যাত্রীদের সময়ের ওপর। বর্তমানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ট্রেনে যেতে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে। নতুন রেলপথ চালু হলে সেই সময় প্রায় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এটি এখনো সম্ভাব্যতার পর্যায়ে থাকা একটি পরিকল্পনা। ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ হওয়ার পর প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সময় কমলে বাড়বে রেলের সক্ষমতা

ঢাকা-চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগ করিডোর। এই রুটে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাপ দীর্ঘদিনের। নতুন কর্ডলাইন নির্মাণ হলে শুধু যাত্রাসময় কমবে না, রেলপথের সক্ষমতা বাড়ানোরও সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে রাজধানী ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই রেলপথের গুরুত্ব রয়েছে। নতুন সংক্ষিপ্ত রুট চালু হলে যাত্রীদের সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

কক্সবাজারে বাড়ছে ট্রেনের সংখ্যা

এদিকে পর্যটননগরী কক্সবাজারের সঙ্গে রেল যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই রুটে চার জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় আরও এক জোড়া ট্রেন চালুর পরিকল্পনা করছে রেলওয়ে।

রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে আরও একটি ট্রেন চালুর ব্যবস্থা করতে চান তারা। বর্তমানে চার জোড়া ট্রেন চলছে। সেটিকে পাঁচ জোড়ায় উন্নীত করার জন্য কাজ চলছে।

অর্থাৎ নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন পাঁচটি ট্রেন কক্সবাজারের উদ্দেশে যাবে এবং পাঁচটি ট্রেন কক্সবাজার থেকে ফিরবে।

২ লাখ ৪০ হাজার গাছের ক্ষতি, চলছে বনায়নের উদ্যোগ

দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণের সময় পরিবেশের ওপর যে প্রভাব পড়েছে, তা নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দোহাজারী থেকে কক্সবাজার ও চকরিয়া পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সময় বিপুলসংখ্যক গাছ কাটতে হয়েছে। এতে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গাছের ক্ষতি হয়েছে।

এই ক্ষতি পূরণে বর্তমানে নতুন করে সামাজিক বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যেসব এলাকায় গাছের ঘাটতি রয়েছে, সেসব স্থানে নতুন করে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেল, বন বিভাগ, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঙ্গে নিয়ে নতুন করে বনায়নের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। রেললাইন নির্মাণের সময় পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে, রেল চলাচল শুরুর পর সেই ঘাটতি পূরণে কাজ করতে চান তারা।

রেলের জমিতে নতুন লিজ বন্ধ

রেলওয়ের জমি লিজ দেওয়ার বিষয়েও সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন রেল প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন করে রেলের কোনো জমি লিজ দেওয়া হবে না।

তবে ইতোমধ্যে যেসব জমি লিজ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে আইনগত কোনো জটিলতা না থাকলে বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুযায়ী তা পরিচালনার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম স্টেশনের অভিযোগ তদন্ত হবে

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের বিভিন্ন সমস্যা ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়েও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্টেশন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

ঢাকায় ফিরে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে তদন্তের ব্যবস্থা করার কথা জানান তিনি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।

টেন্ডারে দলীয়করণের সুযোগ নেই

রেলওয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দলীয়করণের অভিযোগ প্রসঙ্গে হাবিবুর রশিদ বলেন, বর্তমান টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দলীয়করণের কোনো সুযোগ নেই। তারপরও কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’

রেলওয়েসহ সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন রেল প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। এ বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সারাদেশেই মাদকবিরোধী অভিযান চলছে।

মাদকের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, মাদকের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তার অবস্থান বা পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। যে পর্যায়ের ব্যক্তিই হোন না কেন, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।