সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে তুমুল হট্টগোল, রুলিং দিলেন স্পিকার

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:২৪ অপরাহ্ন, ১৪ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৩:১০ পূর্বাহ্ন, ১৭ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের দেওয়া একটি বিবৃতিকে কেন্দ্র করে তুমুল হট্টগোল ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের এক নেতার নিখোঁজ হওয়া, উদ্ধার এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রসঙ্গে মন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাহের আপত্তি তুললে সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ কার্যদিবসে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

আরও পড়ুন: ৮১তম উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর যোগদান

৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানের বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে পুলিশ বিভিন্ন তথ্য পেয়েছে। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে এক নারীর সঙ্গে জিসানের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে ওই নারী ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, গত ১২ জুন বিয়ের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও তার আগের দিন জিসান আত্মগোপনে চলে যান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ইতোমধ্যে কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী শাহজালাল বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকার ঘটনার সত্যতা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, নিখোঁজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সরকারকে দায়ী করার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরতেই তিনি সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন বলে জানান।

মন্ত্রীর বক্তব্যের পর ফ্লোর নিয়ে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাহের। তিনি বলেন, ৩০০ বিধিতে বিবৃতির পর প্রশ্ন বা আলোচনার সুযোগ না থাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একতরফাভাবে একটি রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে বক্তব্য দিয়েছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি অনিষ্পন্ন ও বিতর্কিত বিষয় সংসদে উপস্থাপন করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জিসানের বর্তমান অবস্থান এবং সংশ্লিষ্টদের গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে না দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এরপর সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সংসদ কক্ষে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ৩০০ বিধিতে প্রদত্ত বিবৃতির পর সাধারণত প্রশ্ন বা বিতর্কের সুযোগ নেই। তবে বিশেষ বিবেচনায় বিরোধীদলীয় উপনেতাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

পরে রুলিং দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী বা অসংসদীয় কোনো ভাষা ব্যবহৃত হয়ে থাকলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট অংশ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনা করা হবে।

রুলিংয়ের পর পরিস্থিতি শান্ত হলে সংসদ অধিবেশন স্বাভাবিক হয় এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়।