দরিদ্র মানুষের জন্য এক লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে সরকার

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ন, ২৮ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৬:৫৪ অপরাহ্ন, ২৮ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর কড়াইল বস্তিসহ দেশের ৫৮টি এলাকায় দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) এক লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) অনুযায়ী ইতোমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য স্থান নির্বাচন করা হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

আরও পড়ুন: ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, ক্যাডার ও নন-ক্যাডারে সুপারিশ পেলেন ১,৫২১ জন

মন্ত্রী জানান, গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়ায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ৯৮ একর জমিতে এবং রাজশাহী, দিনাজপুর, বরিশাল, খুলনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ দেশের বিভিন্ন পৌর এলাকার ৩৭টি বস্তিতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য উন্নত আবাসন নিশ্চিত করতে প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) জমিতে ভাড়াভিত্তিক ও সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন: মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘স্পারসো’ আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাজমুন নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩-এর শাস্তির মেয়াদ, জরিমানা ও কারাদণ্ডসংক্রান্ত বিধান স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন করা হবে।

নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা বিতরণে রাজনৈতিক বিবেচনা ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। এসব অনিয়ম দূর করতে প্রকৃত দুস্থদের তালিকাভুক্ত করা এবং ভুয়া সুবিধাভোগীদের বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে দেশব্যাপী শুদ্ধি অভিযান ও ডাটাবেজ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ১৯ এপ্রিল একটি পুনঃযাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬১ লাখ প্রবীণ ব্যক্তি মাসিক ৬৫০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন। এ খাতে মোট বরাদ্দ রয়েছে ৪ হাজার ৭৯১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবীণ ভাতা মাসিক ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে উপকারভোগীর সংখ্যা হবে ৬২ লাখ এবং মোট বরাদ্দ থাকবে ৫ হাজার ২৩৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরে ৩০ লাখ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীকে মাসিক ৭০০ টাকা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী ভাতা ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ খাতে ৩৮ লাখ উপকারভোগীর জন্য ৪ হাজার ৫৮৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, দেশের ৪৪ জেলার ৫৫টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্পের আওতায় তিন ধাপে ৬৯ হাজার ৩৮৭ জন নারীপ্রধান পরিবারের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ভাতা বিতরণ করা হয়েছে।