জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা সৈনিকদের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৩:১৩ অপরাহ্ন, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় পতাকার সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় পতাকা অর্জন শুধু সম্মানের বিষয় নয়, বরং দেশের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভারে সেনাবাহিনীর কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে জাতীয় পতাকা বা ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: যুব সচিব ও এসডি সচিব পর্যায়ে ব্যাপক রদবদল

নিজের সেনা পরিবারের পরিচয় তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সেনা পরিবেশেই তাঁর বেড়ে ওঠা। তাই ভিন্ন পরিচয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেও এ ধরনের পরিবেশ তাঁর কাছে অপরিচিত নয়।

পেশাগত সাফল্য ও বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অর্জন করেছে। এ অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে অভিনন্দন জানান তিনি।

আরও পড়ুন: প্রতিমন্ত্রী ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। জাতীয় পতাকার উড্ডয়ন স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং দেশের জন্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর অবদানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান ১৯৭১ সালের মার্চে মেজর জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পর চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহের ঘোষণা দেন। পরে বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন এবং পরদিন ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনা কর্মকর্তার এই ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আধুনিক সামরিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর ভিত্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম বা জনবল নয়; শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ এবং জনগণের আস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে চেইন অব কমান্ডের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

তারেক রহমান জানান, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার স্পেস ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বর্তমান সময়ে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশীয়ভাবে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সেনাসদস্যদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, পেশাগত উন্নয়ন এবং অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষা হবে আগামীর বাংলাদেশের অন্যতম অঙ্গীকার। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ।