মব সন্ত্রাসে আতঙ্ক চারদিকে

Any Akter
শামসুজ্জামান শামস
প্রকাশিত: ৪:২২ অপরাহ্ন, ২১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৫:০৯ অপরাহ্ন, ২১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

# চলতি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মব সহিংসতায় নিহত ১৭১ জন: আসাক

# ৪০ শতাংশ মব কমেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর থেকে প্রতিবছর সাধারণ ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি

# চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মব সহিংসতায় নিহত ৪০ জন : পুলিশ সদর দপ্তর

বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এক ভয়ানক প্রবণতা, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনি নামে পরিচিত। আইনি ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা, সামাজিক অসহিষ্ণুতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে এই মব সহিংসতা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ভিন্নমত, ধর্মীয় বা রাজনৈতিক বিষয়কে কেন্দ্র করে একের পর এক ঘটে যাওয়া এসব নিষ্ঠুর ঘটনা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার ওপর এক বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে।

আরও পড়ুন: গুজব ও ধর্মীয় উগ্রতার বিরুদ্ধে তরুণদের সোচ্চার থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশে দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা, মব সহিংসতা এবং মব জাস্টিস বা গণপিটুনির প্রবণতা কোনোভাবেই থামছে না। রাজনৈতিক বা অন্তর্বর্তী—যেকোনো সরকারের আমলেই এই সংকট বজায় রয়েছে। আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদল মানুষের উন্মত্ত উল্লাস আর হিংস্রতার নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘মব জাস্টিস’। আজ রাজপথে, কাল কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে, কিংবা পরশু কোনো সাধারণ মানুষের ওপর দলবদ্ধ এই আক্রমণ কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না। যখন বিচার পাওয়ার চেয়ে তাৎক্ষণিক শাস্তি দেওয়ার অন্ধ আক্রোশ একটি সমাজকে গ্রাস করে, তখন শুধু আইনি কাঠামোই ভেঙে পড়ে না, বরং চরম সংকটে পড়ে মানবতার মৌলিক ভিত্তি। কোনোভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না এই উন্মত্ততার।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই বাংলাদেশে মবের ঘটনা মারাত্মক রূপ নেয়। এসময় মব তৈরি করে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া থেকে শুরু করে কবর থেকে লাশ তুলে পোড়ানোসহ নানা ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখা গিয়েছিল। অনেকেই আশা করেছিলেন, নির্বাচিত সরকার আসার পর বদলাবে সেই দৃশ্যপট। পরিসংখ্যান বলছে, সেই আশায় গুঁড়ে বালি। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এবছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মব সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১৭১ জন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১২৮ আর গত বছর ছিল ১৯৮ জন। অর্থাৎ মবতো বন্ধ হয়ইনি, কখনও কখনও বেড়েছে সেই প্রবণতা। আর তার কারণ হিসেবে সামনে আসছে, মবের ঘটনায় সরকার ও বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি।

দেশে ‘মব জাস্টিস’ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই থামছে না। আপাতদৃষ্টিতে এসব ঘটনাকে তাৎক্ষণিক ‘জনরোষ’ বা ‘উত্তেজিত জনতার ক্ষোভ’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে ভিন্ন চিত্র। মানবাধিকারকর্মী, সমাজবিজ্ঞানী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে— তথাকথিত এই মব জাস্টিসের আড়ালে চলছে এক গভীর ক্ষমতার খেলা। ব্যক্তিগত শত্রুতা উদ্ধার, ভিন্নমতাবলম্বী দমন, ব্যবসা বা জমি দখল এবং রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারে মব বা উশৃঙ্খল জনতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল। সরকার গঠনর পর থেকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীতো বটেই, সরকারের একাধিক কর্তা-ব্যক্তি প্রায় নিয়মিতই মবের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তব চিত্রে তার খুব বেশি প্রতিফলন দেখা যায়নি।

চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ১ হাজার ১৩টি ঘটনায় ৭৩ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৪৭৩ জন। একই সময়ে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৩৯৮টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৭ জন। কারাগারে মারা গেছেন ৯৫ জন বন্দী; আর নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ৫১৮ জন সাংবাদিক। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ১৬টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ এবং সংগঠনটির নিজস্ব তথ্য ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। গত সোমবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী মবের ঘটনা বাড়লেও তার সঙ্গে একমত নন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সরকারের নথিভুক্ত মবের ঘটনার উল্লেখ করে সময়ের সঙ্গে তা কমে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সময়ের তুলনায় ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কম্পেরাটিভ স্টেটমেন্ট অব ক্রাইমসে আমরা দেখেছি ৪০ শতাংশ মব কমেছে আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে’। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি বিএনপি সরকার করতে পেরেছে। কিন্তু আরও অনেক উন্নতি করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে মবের ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পুরোপুরি একমত নন বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘অভিযোগ থাকতে পারে। আমরা সেই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করেই বলতে পারবো যে কতখানি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এখানে আছে’। ‘আমাদের তদন্ত রিপোর্ট অনুসারে আমরা দেখেছি খুব কমই এখানে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকে। দেখা যায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জমিজমা বা অন্যান্য বিষয়াদি থাকে। পলিটিক্যাল ইনভলভমেন্ট খুবই কম’, দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। যদিও বিভিন্ন সময় সরকার ও বিরোধী দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা মবের নানা ঘটনায় পাল্টাপাল্টি দোষারোপও করেছেন। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছিলেন, সরকারি দলের প্রশ্রয়েই মব সন্ত্রাস চলছে।

আবার কয়েকদিন আগে সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে জামায়াত-শিবির জুলাইয়ের নামে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম খুলে এসব মব ও সাম্প্রদায়িক কর্মকান্ড করাচ্ছে’। মানবাধিকারকর্মী ও বিশ্লেষকদের মতে, মব বা দলবদ্ধ সহিংসতা বর্তমানে রাজনৈতিক চেহারা নিয়েছে। সম্পত্তি দখল থেকে শুরু করে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলার মতো ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠছে। এনিয়ে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি এইচআরএসএস’র নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনা বা দলের সিদ্ধান্তে মবের ঘটনা ঘটার কোনো তথ্য সংগঠনটির কাছে না থাকলেও এসব ঘটনায় কোনো না কোনো রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থক সংশ্লিষ্টতা কম বেশি দেখা গেছে। ‘কোনো একটা নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠী করছে, এরকম নয়। বলা যায় সব ঘরানারই সমর্থক বা লোকজন এখানে যুক্ত আছে’, বলেন তিনি।

তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা আরও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী সাইদুর রহমান। সম্পত্তি দখল ও ধর্ম সংক্রান্ত মবে আলাদা আলাদা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার কথা বলেন। সম্পত্তি দখলের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি, আর ধর্ম অবমাননার অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার প্যাটার্ন দেখা গেছে উল্লেখ করেন তিনি। ‘আমাদের মনিটরিং রিপোর্ট বলে তৌহিদি জনতার নামে মূলত জামায়াত এগুলো করে। জামায়াতের মদদপুষ্ট কিছু কিছু এনসিপির লোকও এতে আছে। যাদের অনেকেই মাদ্রাসায় চাকরি করে কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ডটা হলো শিবির অথবা জামায়াত’।

সেকারণেই মবের ঘটনায় বিরোধী দলকে যথেষ্ট প্রতিক্রিয়া দিতে দেখা যায় না বলে মন্তব্য করেন সাইদুর রহমান বলেন, ‘এগুলো নিয়ে জামায়াত কোনো কথা বলে না। কোনো প্রেস রিলিজও দেয় না, প্রেস কনফারেন্সও করে না। কোনো ঘৃণাও প্রকাশ করে না, থামানোর জন্য সরকারকে বলে না, নিজেরাও থামায় না’। ‘জামায়াত আর মবের উত্থান একসাথে ঘটেছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যদিও এমন দাবি অস্বীকার করছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ দাবি করেন, অনেক বিবৃতির মাধ্যমে দলটি মবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। ‘এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার? রাষ্ট্রের। পুলিশ আছে, এখানে গোয়েন্দা সংস্থা আছে, তৎপরতা রাখার অনেক এজেন্সি আছে।

প্রশ্ন এখানেই, তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে মব সন্ত্রাস হচ্ছে বা বেআইনি কাজ হচ্ছে, সেটা কীভাবে হচ্ছে? সরকারের মেশিনারিজ তাহলে কাজ করছে না?’,বলেন তিনি। এছাড়া এধরনের ঘটনাগুলোতে জামায়াতকে দায়ী করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন মতিউর রহমান আকন্দ একইসাথে দলটির নেতাকর্মীদের মবের ঘটনায় বিরত না রাখতে পারলে ‘বহু ঘটনা বাংলাদেশে ঘটে যেত’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ‘এটা অনেকটা মাত্রায় কম আছে, কারণ জামায়াত এটাতে যুক্ত না’। দেশে মব সহিংসতার ঘটনা ও প্রাণহানি কমেছে। 

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে মব সহিংসতায় ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এ সময়ে আহত হয়েছেন ৬৫ জন। আর মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৬৩টি। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের একই সময়ে মব সহিংসতার ১০৭টি ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ৬৩ জন নিহত এবং ৮২ জন আহত হন। সে হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে মব সহিংসতার ঘটনা কমেছে ৪৪টি। নিহতের সংখ্যা কমেছে ২৩ জন এবং আহতের সংখ্যা কমেছে ১৭ জন। পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন্স কন্ট্রোলরুমের তৈরি মব সহিংসতার তুলনামূলক বিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মব সহিংসতার সাতটি ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় দুজন নিহত এবং ১২ জন আহত হন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১৮টি ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছিলেন। চলতি বছরের আগস্টে মব সহিংসতার ১১টি ঘটনায় আটজন নিহত ও নয়জন আহত হন। গত বছরের আগস্টে ১৬টি ঘটনায় ১৪ জন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছিলেন। জুলাইয়ে চলতি বছর চারটি ঘটনায় দুজন নিহত ও সাতজন আহত হন। গত বছরের জুলাইয়ে ১৩টি ঘটনায় ১০ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছিলেন।

জুন মাসে চলতি বছর চারটি ঘটনায় চারজন নিহত ও একজন আহত হন। গত বছরের জুনে সাতটি ঘটনায় দুজন নিহত ও ১০ জন আহত হন। মে মাসে দুই বছরেই আটটি করে ঘটনা ঘটে। তবে চলতি বছরের মে মাসে সাতজন নিহত ও আটজন আহত হন; গত বছরের একই মাসে নিহত হন তিনজন এবং আহত হন আটজন। এপ্রিলে চলতি বছর সাতটি ঘটনায় তিনজন নিহত ও ১০ জন আহত হন। গত বছরের এপ্রিলে ১০টি ঘটনায় তিনজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছিলেন।

মার্চে চলতি বছরের ১০টি ঘটনায় তিনজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। গত বছরের মার্চে ২৯টি ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছিলেন। ফেব্রুয়ারিতে চলতি বছরের চারটি ঘটনায় দুজন নিহত ও তিনজন আহত হন। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনটি ঘটনায় তিনজন নিহত ও একজন আহত হন। জানুয়ারিতে চলতি বছরের আটটি ঘটনায় নয়জন নিহত ও চারজন আহত হন। গত বছরের জানুয়ারিতে তিনটি ঘটনায় তিনজন নিহত ও কোনো আহতের তথ্য নেই।