এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শুরু ১ নভেম্বর, কীভাবে করবেন
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টার কিছু আগে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের এই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। অর্থাৎ, ছাত্রদের তুলনায় ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: তাহসিফের মৃত্যুতে বাবার মামলা, গ্রেপ্তার দেখানো হলো বন্ধু দ্বীপকে
সারাদেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। এ বছর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকাশিত ফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আগামী রোববার (১ নভেম্বর) থেকে এ আবেদন শুরু হয়ে চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। আবেদন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধ—দুটি কাজই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
আরও পড়ুন: রিয়াদে কারখানায় আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে
উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে হবে অনলাইনে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে: https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd
ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে সাবমিট করতে হবে। এরপর একটি সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলে ওই নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে।
পরবর্তী ধাপে শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। সেখান থেকে যেসব বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ করতে চান, সেগুলো নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ অপশনে যেতে হবে। শিক্ষাবোর্ড নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি পত্রের জন্য আবেদন ফি ১৫০ টাকা। কোনো বিষয়ে দুটি পত্র থাকলে উভয় পত্রের জন্যই আবেদন করতে হবে। বিষয় নির্বাচন শেষে মোট ফি পর্দায় দেখা যাবে।
পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ফি বিকাশ, নগদ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রকেট, উপায় ও সোনালী সেবার মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে। পেমেন্টের বিস্তারিত নির্দেশনা জানতে আবেদন পোর্টালের ‘হেল্প’ অপশন অনুসরণ করতে হবে। ফি পরিশোধের পর আবার আবেদন পোর্টালে প্রবেশ করে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এ ধাপ সম্পন্ন হলেই আবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হবে।
শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার পরও নতুন কোনো বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে আগের মতো বিষয় নির্বাচন করে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। তবে নতুন করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
অন্যদিকে, ফি পরিশোধের আগে আবেদন সংশোধন বা পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য ‘মুছে ফেলুন’ অপশন ব্যবহার করে যেসব বিষয়ের ফি এখনো দেওয়া হয়নি, সেগুলোর আবেদন প্রত্যাহার করে নতুন বিষয় নির্বাচন করা যাবে। তবে কোনো বিষয়ের আবেদন ফি একবার পরিশোধ করা হলে সেটি আর বাতিল করা যাবে না। পরিশোধিত আবেদন ফিও ফেরত দেওয়া হবে না।
শিক্ষাবোর্ড জানিয়েছে, উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। সরাসরি বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাই আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।





