নুরুল হক নুরকে শোকজ, ৩ ফেব্রুয়ারি শুনানি

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪৪ অপরাহ্ন, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি এবং পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনের প্রার্থী নুরুল হক নুরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পটুয়াখালীর দশমিনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে এই নোটিশ জারি করা হয়। কমিটির সদস্য ও সিভিল জজ সাব্বির মো. খালিদের স্বাক্ষরিত নোটিশে নুরের বিরুদ্ধে একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন

নোটিশ অনুযায়ী, নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা-২০২৫ এর ১৫(ক) এবং ১৬(গ) ও (ছ) বিধি লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত ২৬ জানুয়ারি রাতে দশমিনা উপজেলার পাগলা বাজার সেন্টারে অবস্থিত হাসান মামুনের নির্বাচনী কার্যালয়ে নুরের সমর্থকেরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও কর্মীদের আহত করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এই ঘটনাকে আচরণবিধিমালার ৬(ক) বিধির পরিপন্থি উল্লেখ করে নুরের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া গুণ্ডা-পাণ্ডারা গার্মেন্টসে আগুন দিচ্ছে: রিজভী

নোটিশে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে নুরুল হক নুরকে সশরীরে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে শুনানি নিশ্চিত করতে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নোটিশ দ্রুত জারির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

মূলত স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনের পক্ষে অ্যাডভোকেট এনামুল হকের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচন শুরু থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ। বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মো. হাসান মামুন জোটগত সমঝোতার কারণে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। অন্যদিকে বিএনপির সমর্থন নিয়ে নুরুল হক নুর ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন।

স্থানীয় বিএনপির বড় একটি অংশ এখনো হাসান মামুনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় কেন্দ্রীয় বিএনপি দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। ফলে এলাকায় রাজনৈতিক বিভাজন ও উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

বর্তমানে দুই প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, সংঘর্ষের ঘটনা ও শোকজ নোটিশকে কেন্দ্র করে পুরো নির্বাচনী এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করেছে।

এ বিষয়ে নুরুল হক নুরের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।