নুসরাতের গেজেট স্থগিত চেয়ে ইসিতে আবেদন মনিরার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নুসরাত তাবাসসুমের গেজেট প্রকাশ হাইকোর্টের রিট শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন এনসিপির প্রার্থী মনিরা শারমিন।
রোববার (৩ মে) নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া লিখিত আবেদনে মনিরা শারমিন উল্লেখ করেন, তিনি এনসিপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তবে যাচাই-বাছাই শেষে গত ২০ এপ্রিল তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন: মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও ‘গ্রেপ্তার–জামিন হয়রানি’ বন্ধে আইনি সংস্কারের দাবি
ইতিমধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বলে গেজেট প্রকাশ করেন ইসি। এবং রোববার রাতে এসব সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণ করেন। এ ৪৯ জনের মধ্যে বিএনপি'র ৩৬ জন, জামায়াত ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটের ১২ জন এবং একজন স্বতন্ত্র জোটের।
এখন বাকি রয়েছে জামায়াত- এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটের একটি আসনের বিজয়ী প্রার্থীর নামে গেজেট।
আরও পড়ুন: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ‘ভণ্ডামি’, হাসনাত আবদুল্লাহর সমালোচনা
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি ইসিতে আপিল বিভাগে আবেদন করলেও গত ২৮ এপ্রিল তা খারিজ হয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি মনোনয়ন বাতিল ও আপিল খারিজের সিদ্ধান্তকে বেআইনি দাবি করে হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন (নং-৫৪৬১/২৬) দায়ের করেন। রিটটির শুনানি আগামী ৪ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আবেদনে তিনি বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকায় শুনানি নিষ্পত্তির আগে নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতার গেজেট প্রকাশ করা হলে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হতে পারে।
মনিরা শারমিন আরও উল্লেখ করেন, দলীয় মনোনয়ন প্রথমে তাকে দেওয়া হয়েছিল এবং তার প্রার্থিতা বাতিলের বৈধতা এখন আদালতের বিবেচনায় রয়েছে। এ অবস্থায় গেজেট প্রকাশে তড়িঘড়ি করা হলে তার সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে গেজেট প্রকাশ করা হলে তা তার জন্য ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে নির্ধারিত সময়ের কিছুক্ষণ পর মনোনয়ন জমা দেওয়ায় ফ্রেন্ডশিপ এর নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন প্রথমে গ্রহণ করেননি সংরক্ষিত নারী আসনের ইদানিং কর্মকর্তা। এরপর নুসরাত তাবাসসুম হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তার মনোনয়ন গ্রহণ করে তা ইসিকে যাচাই-বাছাইয়ের আদেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর যাচাই বাছাই শেষে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র ঘোষণা করে রিটার্নিং কর্মকর্তা।





