আলোচিত ঢাকা- ৮ এর ফলাফল ঘোষণায় মধ্যরাতে কি ঘটেছিল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত আসনগুলোর একটি ঢাকা-৮। ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষ হলেও বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে চারটা পর্যন্ত এই আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হয়নি।
ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস এবং শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মধ্যে।
আরও পড়ুন: ২৯৭ আসনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা, দুই আসনের ফল স্থগিত
নির্বাচনের আগ থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এই আসনটিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে।
ভোটের দিন সকালেই উত্তেজনার সূচনা হয়। এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে একটি কেন্দ্রে প্রবেশ করতে গেলে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সমর্থকদের বাধার মুখে পড়েন। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
আরও পড়ুন: ভূমিধস জয় বিএনপির, ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন তারেক রহমানের
সন্ধ্যার পর ভোট গণনা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত সাড়ে আটটার দিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ দেন। তার সমর্থকেরা কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নেন।
এর কিছুক্ষণ পর মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। তিনি নাসীরুদ্দীনের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে ফলাফল যেন কোনোভাবে প্রভাবিত না হয় সে আহ্বান জানান। এসময় বিএনপির অন্তত দুই শতাধিক নেতাকর্মী কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নেন।
পরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে অভিযোগ করেন, “ঢাকা-০৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস ভোট কেন্দ্রে গিয়ে গিয়ে ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। এই অপচেষ্টা রুখে দিন, ফলাফল না আসা অবধি কেন্দ্র পাহারা দিন।”
জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত মির্জা আব্বাসের বিপরীতে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও তরুণ ভোটারদের মধ্যে আলোচিত। ফলে এই আসনের লড়াইকে ঘিরে আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত এই আসনটি মতিঝিল, শাহবাগ, রমনা, পল্টন ও শাহজাহানপুর থানা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার দুই লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন।
ভোট গণনা শেষ হলেও ফল ঘোষণা বিলম্বিত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি।





