নির্বাচনি সহিংসতা নিয়ে টিআইবির হিসাবের সঙ্গে একমত নয় সরকার

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৩৩ অপরাহ্ন, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ২:৩৩ অপরাহ্ন, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নির্বাচনি তফশিল ঘোষণার পর ৩৬ দিনে ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন—ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর এমন পরিসংখ্যান নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সতর্ক অবস্থান জানানো হয়েছে। বিষয়টি অন্ধভাবে পুনরুক্তি না করে তথ্য ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

নির্বাচনি সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত টিআইবির প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় জানায়, পুলিশের নথি অনুযায়ী আলোচিত সময়ের হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে মাত্র পাঁচটি ঘটনার সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক পরিচয় বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণযোগ্য সংযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: ক্ষমতায় গেলে নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

বার্তায় উল্লেখ করা হয়, ওই পাঁচ ঘটনার একটি ছিল তরুণ রাজনৈতিক নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড। মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি নিহত হন। সরকার বলছে, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডই নিন্দনীয় হলেও ওসমান হাদির ঘটনাটি ছিল বিশেষভাবে ভয়াবহ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

প্রেস উইংয়ের মতে, এই হত্যাকাণ্ডের লক্ষ্য ছিল সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে দেশে আতঙ্ক ও অস্থিরতা তৈরি করা। তবে সে উদ্দেশ্য সফল হয়নি। দেশ প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় জড়ায়নি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয়নি।

আরও পড়ুন: ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যর্থ হলে ৫ আগস্টও ব্যর্থ হবে: নাহিদ ইসলাম

সরকার আরও বলছে, টিআইবির প্রতিবেদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক অনুপস্থিত—তা হলো ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। বাংলাদেশে নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার নজির নতুন নয়। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে ছয়জন, ২০১৮ সালের রাতের ভোটে ২২ জন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ১১৫ জন নিহত হয়েছিলেন।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় বর্তমান নির্বাচন-পূর্ব সময়কে নিরাপত্তার চরম ভাঙনের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা টেকসই নয় বলে মন্তব্য করা হয়।

সরকারের ব্যাখ্যায় বলা হয়, টিআইবির পরিসংখ্যান ও সরকারি তথ্যের পার্থক্য কোনো ধামাচাপা দেওয়ার ফল নয়; বরং এটি হত্যাকাণ্ড শ্রেণিবিন্যাসের পদ্ধতিগত ভিন্নতার প্রতিফলন। টিআইবি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের যেকোনো হত্যাকাণ্ডকে নির্বাচন-সম্পর্কিত হিসেবে গণ্য করছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রমাণ থাকুক বা না থাকুক। অন্যদিকে সরকার কেবল সেসব ঘটনাকেই অন্তর্ভুক্ত করছে, যেগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কার্যক্রমের সরাসরি ও প্রমাণযোগ্য সম্পর্ক রয়েছে।

এই দুই পদ্ধতিকে এক করে উপস্থাপন করলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে এবং নিরাপত্তাহীনতার ধারণা অতিরঞ্জিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়।

বার্তায় স্বীকার করা হয়, জননিরাপত্তা এখনও পুরোপুরি নিখুঁত নয়। শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে দীর্ঘদিনের রাজনীতিকরণ, অপব্যবহার ও দমন-পীড়নের কারণে পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ কারণেই নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি জোরালো হয়েছিল।

ক্ষমতা গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের অপসারণ ও বরখাস্ত করেছে, বিশেষ বাহিনীগুলোর ভূমিকা পর্যালোচনা করেছে এবং গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু করেছে বলেও জানানো হয়।

ওসমান হাদি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন—এই তিনটি সংবেদনশীল ও বৃহৎ জনসমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়াকে নতুন পেশাদারিত্বের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে প্রেস উইং।

বার্তায় বলা হয়, কোনো সরকারই সহিংসতার শতভাগ ঝুঁকি নির্মূল করতে পারে না, বিশেষ করে যখন কিছু প্রভাবশালী পক্ষ সচেতনভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চালায়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি জোরদার হয়েছে, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সহযোগিতা বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা মাঠে রয়েছেন।

সব মিলিয়ে এই বাস্তবতাগুলো আশার জায়গা তৈরি করছে—এই নির্বাচন হয়তো দীর্ঘদিনের ভয় ও সহিংসতার চক্র ভাঙার সুযোগ এনে দিতে পারে।