১২ ফেব্রুয়ারি ব্যর্থ হলে ৫ আগস্টও ব্যর্থ হবে: নাহিদ ইসলাম

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:১৪ অপরাহ্ন, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ২:৪৭ অপরাহ্ন, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ব্যর্থ হলে তা ৫ আগস্টের অর্জনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যেভাবে ৫ আগস্ট সফল করা হয়েছে, সেভাবেই ১২ ফেব্রুয়ারিও সফল করা হবে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডায় এনসিপির নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ ১২ ফেব্রুয়ারি বিজয় নিয়েই তারা ঘরে ফিরবেন।

আরও পড়ুন: ক্ষমতায় গেলে নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

ঢাকা-১১ আসনের দীর্ঘদিনের নাগরিক সংকট তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই এলাকায় পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, সরকারি স্কুল ও হাসপাতালের মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল বা হাই স্কুল নেই বললেই চলে। মাত্র ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর বিপুল জনগোষ্ঠীর শিক্ষার চাপ রয়েছে, ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর হয়ে পড়েছে।

বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকার প্রায় ৬০ শতাংশ রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ এলাকা পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে, বাকি অংশ অপরিকল্পিত নর্দমা ও ভরাট হয়ে যাওয়া খালের ওপর নির্ভরশীল। রামপুরা ও শাহজাদপুর খালসহ গুরুত্বপূর্ণ জলাধার দখল ও ভরাটের কারণে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: নির্বাচনি সহিংসতা নিয়ে টিআইবির হিসাবের সঙ্গে একমত নয় সরকার

তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা-১১ আসনের উন্নয়ন পিছিয়ে থাকার মূল কারণ রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা ভূমিদস্যু চক্র। এই চক্র শত শত মানুষের জমি, খাস জমি ও জলাশয় দখল করে অসংখ্য পরিবারকে সর্বস্বান্ত করেছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ক্ষমতায় গেলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা হবে। যাদের জমি দখল হয়ে গেছে, তাদের জমি ফিরিয়ে দেওয়া হবে অথবা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে ঢাকা-১১ থেকে ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট স্থায়ীভাবে নির্মূল করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

জাতীয় রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এনসিপি শুধু ঢাকা-১১ নয়, সারা দেশেই বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। ১১ দলীয় ঐক্যজোট ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের পাশাপাশি আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তিনি দেশব্যাপী জোটের প্রার্থী ও প্রতীকের পক্ষে ভোট ও সহযোগিতা কামনা করেন।

শেষে তিনি বলেন, একটি শক্তি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনায় রয়েছে। সেই পরিকল্পনাকে পরাজিত করতে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশকে দখলদার, আধিপত্যবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণ সমাজ এ লড়াইয়ে প্রস্তুত রয়েছে।