রংপুরে দলীয় কোন্দল ও ‘আঁতাতের’ অভিযোগে এনসিপি নেতার পদত্যাগ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২:৪৭ অপরাহ্ন, ২০ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২:৪৭ অপরাহ্ন, ২০ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রংপুরে দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অন্য দলের নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা শেখ রেজওয়ান। তিনি জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দলের সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুন: ঈদ উদযাপন শেষে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা জোবাইদা রহমান

পদত্যাগের বিষয়ে শেখ রেজওয়ান গণমাধ্যমকে জানান, রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিদের আনা হয়েছে, যারা জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার অভিযোগ, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা বর্তমানে এনসিপির নেতৃত্বে জায়গা করে নিয়েছেন।

তিনি বলেন, “বিপ্লবীদের দল হিসেবে গড়ে ওঠা এনসিপিতে যারা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তাদের দিয়ে নেতৃত্ব কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।”

আরও পড়ুন: ঈদযাত্রায় ভাড়া অনিয়মে জাতি লজ্জিত: জামায়াত আমির

এছাড়া জেলা কমিটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, সদস্য সচিব এরশাদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় তাকে পদ থেকে সরানোর পর ওই পদটি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। নিয়ম অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান মনির ওই পদে আসার কথা থাকলেও তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।

শেখ রেজওয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ১ নম্বর যুগ্ম সদস্য সচিব হওয়া সত্ত্বেও গ্রুপিংয়ের কারণে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি এবং দীর্ঘদিন ধরে পদটি শূন্য রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সাদিয়া ফারজানা দিনা ও আসাদুল্লাহ আল গালিবের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরেও তাকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জেলা কমিটির আহ্বায়ক আল মামুনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দলে গ্রুপিং ও বিভাজন চরম আকার ধারণ করেছে, শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে এবং বিভিন্ন দলের লোকজন দলে প্রবেশ করায় সংকট আরও গভীর হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২ ডিসেম্বর আল মামুনকে সভাপতি ও এরশাদ হোসেনকে সদস্য সচিব করে রংপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পরে একটি জাতীয় দৈনিকে এরশাদ হোসেনের পেশাগত অবস্থান নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।