সংরক্ষিত নারী আসন

মনোনয়ন জমা মূলত ৫০ টিই: প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই ‘নির্ধারিত’ নির্বাচনের পথে সংসদ

Sanchoy Biswas
এম এম লিংকন
প্রকাশিত: ৭:২৮ অপরাহ্ন, ২১ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৭:২৮ অপরাহ্ন, ২১ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। তবে আসন বণ্টন ও দলীয়ভাবে প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ায় নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ কার্যত নেই—ফলে এ নির্বাচন অনেকটাই পূর্বনির্ধারিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের যুগ্মসচিব ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন খান জানান, বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়ন জমা নেওয়া হয়। দিন শেষে বিএনপি জোট থেকে ৩৬টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট থেকে ১৩টি এবং স্বতন্ত্র জোট থেকে একটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

আরও পড়ুন: গণতন্ত্রে সক্রিয় ভূমিকার প্রত্যাশা সেলিনা রহমানের

তিনি আরও জানান, স্বতন্ত্রভাবে আরও তিনজন—শাম্মা আক্তার, মোসাম্মদ মেহরুন্নেসা ও মাহবুবা রহমান—মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। যাচাই-বাছাইয়ের সময় তাদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২২ ও ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। আপিল গ্রহণ ২৬ এপ্রিল, নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।

আরও পড়ুন: সংরক্ষিত নারী আসনে ১৩ প্রার্থীর মনোনয়ন জমা: সংসদে গঠনমূলক বিরোধী ভূমিকার প্রত্যাশা

সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ আসনে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। সে অনুযায়ী বিএনপি জোট পাচ্ছে ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি আসন নির্ধারিত হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট দলগুলো আগেই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাস্তব সুযোগ নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অভিজ্ঞ ও নবীন নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত এই তালিকা সংসদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত নারী সদস্যরা আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করবেন।

অন্যদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সরকার জনস্বার্থ থেকে বিচ্যুত হলে বিরোধী সদস্যরা সংসদের ভেতরে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়াতেই প্রার্থীরা নির্বাচিত হবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলেও নির্বাচনী প্রতিযোগিতা না থাকায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। দলীয় সিদ্ধান্তই এখানে চূড়ান্ত হওয়ায় জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ সীমিত থাকে।

মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শেষে প্রার্থীদের নির্বাচিত হওয়া প্রায় নিশ্চিত—ফলে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আবারও বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পন্ন হওয়ার পথে রয়েছে।