ভারত সব দলকে পকেটে ঢুকিয়েছে, একটি দলকে পারেনি: জামায়াত আমির

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৫২ অপরাহ্ন, ৩০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১০:১৩ অপরাহ্ন, ৩০ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একটি দেশ বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলকে নিজেদের প্রভাবের মধ্যে আনতে সক্ষম হলেও জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে তা পারেনি। তিনি দাবি করেন, তাদের একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল আধিপত্যবাদ মেনে না নেওয়া।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনের কাউন্সিল হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর জামায়াতের উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল।

আরও পড়ুন: আয় কমেছে জামায়াতের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের একমাত্র দোষ ছিল, আমরা আধিপত্যবাদ মেনে নেইনি।”

তিনি আরও দাবি করেন, ভারতে সম্প্রতি সংঘটিত ছাত্র আন্দোলনের পেছনেও জামায়াতে ইসলামীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ন্ত্রণে আনলেও জামায়াতকে বশে আনা যায়নি বলেই আমাদের নিয়ে তাদের এত ভয়।”

আরও পড়ুন: জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে বেইমানি করলে আল্লাহ ছেড়ে দেবেন না: ডা. শফিকুর রহমান

একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে জামায়াত আমির বলেন, “বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলকে একটি দেশ পকেটে ঢুকিয়ে ফেলেছে, শুধু একটি দলকে পারেনি। সেই দলের নাম জামায়াতে ইসলামী।”

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ধানাই-পানাই বাদ দিয়ে সোজা পথে চলুন। জাতি কঠিন সংকটে আছে।”

জুলাই আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকার বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আন্দোলনের শুরু থেকেই তারা শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। তবে আন্দোলন সফল হওয়ার পর কখনো এর কৃতিত্ব দাবি করেননি। বরং শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং আহতদের সেবায় কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ এবং অনেকেই ছাত্র ছিলেন না। তারা কোনো কোটার দাবিতে নয়, বরং একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।

বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ, ব্যাংক-বিমা, করপোরেশনসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ চলছে। যোগ্য ও দেশপ্রেমিকদের বাদ দিয়ে দুর্নীতিপরায়ণদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল শুধু একটি দলকে সরিয়ে আরেকটি দলকে ক্ষমতায় আনা নয়; বরং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পরিবর্তন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার জাতির সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। তিনি সরকারকে ভুল সংশোধন করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করার আহ্বান জানান।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের হত্যার বিচার এবং আহতদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে জামায়াত অনড় থাকবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে ভয়ভীতি প্রদর্শনে তারা বিচলিত নন উল্লেখ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।