৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২

ভাষা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে, প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছাত্রসমাজ

Any Akter
আহমেদ শাহেদ
প্রকাশিত: ৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ছিল আন্দোলনের বিস্তার ও সংগঠন আরও সুদৃঢ় করার দিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলন এদিন ক্রমে শহরের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

এই দিন ছাত্রনেতারা ২১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচিকে সামনে রেখে যোগাযোগ ও সংগঠনের কাজ আরও জোরদার করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের পাশাপাশি মেডিকেল কলেজ, জগন্নাথ কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলনের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়।

আরও পড়ুন: ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২: ভাষা আন্দোলনে গতি, কঠোর অবস্থানে ছাত্রসমাজ

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছোট ছোট আলোচনা সভা ও বৈঠকের মাধ্যমে আন্দোলনের কৌশল নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। ছাত্রনেতারা বলেন, ভাষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।

৯ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আগের দিনের তুলনায় বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী প্রকাশ্যে আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেন। অনেকেই লিফলেট বিতরণ ও প্রচার কার্যক্রমে যুক্ত হন।

আরও পড়ুন: ভাষা আন্দোলনে স্পষ্ট অবস্থান, নিষেধাজ্ঞা মানা হবে না- ঘোষণা ছাত্রসমাজের

এদিকে সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভূমিকা আরও সক্রিয় হয়। বিভিন্ন জায়গায় কবিতা পাঠ, আলোচনা ও দেশাত্মবোধক গানের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা চলে। এতে আন্দোলন একটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিতে শুরু করে।

ঢাকা শহরের সার্বিক পরিবেশ ছিল উদ্বেগ ও উত্তেজনায় ভরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আশপাশে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়।

আন্দোলনের সঙ্গে জড়িতদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

তবে প্রশাসনিক তৎপরতার মধ্যেও ছাত্রসমাজের মধ্যে ভীতি বা বিভ্রান্তি দেখা যায়নি। বরং আন্দোলনের প্রতি তাদের মনোভাব আরও দৃঢ় হয়। অনেক শিক্ষার্থী মনে করেন, আন্দোলন এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখান থেকে পিছু হটার আর সুযোগ নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৯ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই সময় থেকেই আন্দোলন ছাত্রপর্যায়ের গণ্ডি পেরিয়ে ধীরে ধীরে বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিতে থাকে।

২১ ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে শুরু করেছে, তখন ৯ ফেব্রুয়ারি স্পষ্ট করে দেয়- ভাষা আন্দোলন আর বিচ্ছিন্ন কোনো প্রতিবাদ নয়, এটি হয়ে উঠছে একটি ঐক্যবদ্ধ গণদাবি।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে ৯ ফেব্রুয়ারি তাই স্মরণীয় হয়ে আছে আন্দোলনের বিস্তার ও সংগঠনের দিন হিসেবে।