স্টার্কের তাণ্ডবে ৬ উইকেট হারিয়ে লাঞ্চে বাংলাদেশ
মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে শুরুতেই ভেঙে পড়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং। ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে লাঞ্চ বিরতির আগেই ২৩ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩৫ রান করেছে টাইগাররা।
ডারউইন টেস্টে অবিশ্বাস্য জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টেও ভালো করার প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমেই বড় ধাক্কা খায় সফরকারীরা। মাত্র ২২ বলের মধ্যে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের টপ অর্ডারকে একাই গুঁড়িয়ে দেন স্টার্ক।
আরও পড়ুন: স্টার্কের ৬ উইকেটের জবাবে শরিফুলের ছয় শিকার, অস্ট্রেলিয়ার লিড ১০১
মাত্র ৬.৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ১২ রানে ৫ উইকেট। নিজের চার ওভারের স্পেলে তিনটি মেডেনসহ মাত্র ৪ রান খরচ করে পাঁচ উইকেট নেন অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি পেসার। এর আগে জ্যামাইকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও মাত্র ১৫ বলে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুতেই সাদমান ইসলামকে ক্যামেরন গ্রিনের ক্যাচে পরিণত করেন স্টার্ক। পরের ওভারে পরপর দুই বলে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে সাজঘরে ফেরান তিনি। ফলে বাংলাদেশের প্রথম তিন ব্যাটারই রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন।
আরও পড়ুন: শরিফুল-তাসকিনের তোপে অস্বস্তিতে অস্ট্রেলিয়া
এরপর মুমিনুল হককে ৯ রানে আউট করেন স্টার্ক। লিটন দাসও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি; মাত্র পাঁচ বল মোকাবিলা করে কোনো রান না করেই ফেরেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার।
বাংলাদেশের সামনে তখন টেস্ট ক্রিকেটে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের লজ্জায় পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে ২৬ রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড আপাতত এড়াতে পেরেছে তারা। অবশ্য নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড থেকেও এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয় বাংলাদেশ।
মুশফিকুর রহিম ৪২ বল খেলে মাত্র ৫ রান করে ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে আউট হন। ২১ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। প্রথম সেশন শেষে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে স্কোর ৩৫ রানে পৌঁছায়। মিরাজ ১১ এবং হাসান মাহমুদ ৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন।
এই টেস্টের একাদশে বাংলাদেশ একটি পরিবর্তন এনেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠের ওয়ানডে সিরিজে ৬ উইকেট নেওয়া শরিফুল ইসলাম দলে ফিরেছেন। চোট কাটিয়ে তিনি ইবাদত হোসেনের জায়গা নিয়েছেন।
বাংলাদেশ একাদশ
সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ
ট্যাভিস হেড, ম্যাট রেনশ, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটরক্ষক), বেউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন, জশ হ্যাজেলউড।





