তাওহিদ হৃদয়ের ঝড়েও পাকিস্তানের কাছে হারল বাংলাদেশ

Sadek Ali
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, ০১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, ০১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

তাওহিদ হৃদয়ের দারুণ ব্যাটিংয়ে লড়াকু সংগ্রহ পেয়েছিল বাংলাদেশ। বল হাতে শেখ মেহেদি হাসান ও রিশাদ হোসেনও চেষ্টা করেছিলেন। তবে বাকিদের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের কাছে হেরে এশিয়ান গেমসে পুরুষ ক্রিকেটের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়েছে বাংলাদেশের।

বৃহস্পতিবার জাপানের নিশিনে এশিয়ান গেমস পুরুষ ক্রিকেটের সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। এই জয়ে ফাইনালে উঠে গেছে পাকিস্তান। অন্যদিকে বাংলাদেশকে এখন খেলতে হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে, যেখানে ব্রোঞ্জ পদকের জন্য লড়বে তারা।

আরও পড়ুন: ইয়ামালের জোড়া গোলে ক্রোয়েশিয়াকে উড়িয়ে দিল স্পেন

ম্যাচ শুরুর নির্ধারিত সময়ে বৃষ্টি না থাকলেও ভেজা আউটফিল্ডের কারণে খেলা শুরু হতে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা দেরি হয়। পরে দুই দলের ইনিংসই কমিয়ে ১৩ ওভারে নির্ধারণ করা হয়।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন তাওহিদ হৃদয়। জবাবে ৯ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।

আরও পড়ুন: না খেলেই এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। প্রথম ওভারেই সাহিবজাদা ফারহানকে ফিরিয়ে দেন শেখ মেহেদি হাসান। পরের ওভারে মাজ সাদাকাত চার-ছক্কায় আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করলেও নাসুম আহমেদের বলে আউট হন তিনি।

চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে এসে প্রথম তিন বলেই ছক্কা ও দুই চার হজম করেন মুস্তাফিজুর রহমান। তবে ওভারের শেষ বলে সাইম আইয়ুবকে ফিরিয়ে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন তিনি। এরপর রিশাদ হোসেনের বলে উসমান খানও আউট হলে ৫৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান।

তবে এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি হাসান নাওয়াজ ও আব্দুল সামাদ। দুজন মিলে মাত্র ৩২ বলে ৫৯ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে পাকিস্তানকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

পাকিস্তানের জয়ের পথে সবচেয়ে বড় আঘাত আসে মুস্তাফিজের ওভারে। দশম ওভারে একটি ছক্কা ও চারটি চারসহ মোট ২৩ রান দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২ ওভারে ৪১ রান খরচ করেন এই বাঁহাতি পেসার। নাসুম আহমেদ ৩ ওভারে দেন ৩৩ রান।

পাকিস্তানের হয়ে আব্দুল সামাদ ১৫ বলে ৩০ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও একটি ছক্কা। হাসান নাওয়াজ ২২ বলে করেন ২৭ রান।

এর আগে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাকিস্তান। শুরুতেই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারে আরাফাত মিনহাসের বলে ছক্কা হাঁকানোর পরই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। তার ব্যাট থেকে আসে ৭ রান।

পরের ওভারে সাইম আইয়ুবের বলে রিভার্স শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হন লিটন কুমার দাস। তিনি করেন মাত্র ২ রান। এরপর মিনহাসের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন পারভেজ হোসেন ইমন। তার সংগ্রহ ১ রান।

সাইফ হাসান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। একটি চার ও দুটি ছক্কা মারলেও সুফিয়ান মুকিমের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। ১৭ বলে ১৯ রান করেন সাইফ।

মাত্র ৪৫ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন তাওহিদ হৃদয়। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ৩০ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন তিনি।

হৃদয় পাকিস্তানের বোলারদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে আবরার আহমেদ, সুফিয়ান মুকিম ও মোহাম্মদ ওয়াসিমের বলে ছক্কা হাঁকান। শেষ পর্যন্ত মুকিমের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দেন তিনি। ১৫ বলে ৪২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন হৃদয়।

মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত করেন ১৬ বলে ১১ রান। শেষ দিকে শেখ মেহেদি হাসান ৪ বলে করেন ৮ রান।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় সহায়তা আসে পাকিস্তানের অতিরিক্ত রান থেকে। একের পর এক ওয়াইডসহ মোট ১৯ রান অতিরিক্ত দেয় পাকিস্তান। বোলিংয়ে সুফিয়ান মুকিম ৩ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। আরাফাত মিনহাস ৩ ওভারে ২৩ রান দিয়ে শিকার করেন ২ উইকেট।