প্রকল্প ব্যয় ৪ হাজার ২২৫ কোটি টাকা রেলপথে যুক্ত হলো মোংলা বন্দর
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে দেশের রেলপথ নেটওয়ার্কের সাথে প্রথমবারের মতো যুক্ত হলো দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা। শনিবার দুপুর ২ টার দিকে কমিউটার ট্রেন ‘বেতনা এক্সপ্রেস’ মোংলা স্টেশনে পৌঁছায়।
এর আগে সকাল ১০টায় বেনাপোল থেকে মোংলার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি।
আরও পড়ুন: বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদকে বহিষ্কার
মূলত, বাংলাদেশের মোংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে ভারতে পণ্য ও মালামাল পরিবহনের জন্য ৪ হাজার ২২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ রেল রূট নির্মাণ করা হয়েছে। ১৩৮ কিলোমিটার দূরত্বের এ রেলপথের মাধ্যমে বেনাপোল স্থলবন্দর এবং মোংলা সমুদ্রবন্দর সংযুক্ত করা হয়েছে। গত বছরের ১ নভেম্বর
খুলনা-মোংলা নতুন রেললাইনের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের ৭ মাস পর এ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু করলো। প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, খুলনা-মোংলা বন্দর রেলপথ প্রকল্প ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর একনেকে পাস হয়। এ সময়ে প্রকল্পের ব্যয় নিরধারণ করা হয় ১ হাজার ৭২১
আরও পড়ুন: বিএনপিতে ফিরলেন একরামুজ্জামান, প্রত্যাহার করলেন মনোনয়ন
কোটি টাকা। আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে। পরবরতীতে কয়েক দফা সময় বৃদ্ধি করার ফলে প্রকল্প শেষ করতে ব্যয় হয় ৪ হাজার ২২৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটিতে বাংলাদেশ সরকারের বিনিয়োগ ১ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা এবং ভারত সরকারের পক্ষে ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের বিনিয়োগ ২ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা।
রূপসা রেলসেতুসহ প্রকল্পের মুল কাজ সম্পন্ন করেছে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লার্সন অ্যান্ড টুরবো লিমিটেড (এলএনটি) এবং আনুয়াঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করেছে ভারতের অপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইরকন ইন্টারন্যাশনাল। বাংলাদেশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মুন ব্রাদার্স
জয়েন্ট ভেঞ্চার (জেভি) সিগন্যালিং এবং টেলিকমিউনিকেশনের কাজ সম্পন্ন করেছে। বেশ কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। ফলে প্রকল্পের কাজে সমাপ্ত হতে সময় লেগেছে মোট সাড়ে ৬ বছর। বেনাপোল-মোংলা ট্রেন চলাচলের প্রথম দিনে বেনাপোল রেলস্টেশনে কোনও আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও ৫৪৯ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি। যাত্রা পথে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫ টাকা।
বেনাপোল স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান জানান, ট্রেনটি বেনাপোল থেকে ছাড়ার পর নাভারণ, ঝিকরগাছা, যশোর জংশন, রূপদিয়া, সিঙ্গিয়া, চেঙ্গুটিয়া, নওয়াপাড়া, বেজেরডাঙ্গা, ফুলতলা, আড়ংঘাটা, মোহাম্মদনগর, কাটাখালি, চুলকাটি বাজার, ভাগা ও দিগরাজ স্টেশনে যাত্রাবিরতির করবে। #





