গোপালগঞ্জে এনসিপির সভাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ৪ নিহত, কারফিউ জারি, আটক ১৪

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৫১ অপরাহ্ন, ১৭ জুলাই ২০২৫ | আপডেট: ৮:৫১ পূর্বাহ্ন, ১৭ জুলাই ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর পদযাত্রা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা, দফায় দফায় সংঘর্ষ এবং প্রাণহানির পর পুরো শহরে কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার (১৬ জুলাই) রাত থেকে চলমান এই কারফিউর মধ্যে অভিযান চালিয়ে যৌথ বাহিনী ১৪ জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের গোপালগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি মির মো. সাজেদুর রহমান। তবে এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

কারফিউর কারণে বৃহস্পতিবার সকালেও শহরে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরেনি। সড়কে দেখা যায়নি যানবাহন, দোকানপাট ও বাজার ছিল বন্ধ। মূল সড়কগুলো ছিল ফাঁকা, তবে কিছু অলিগলিতে সীমিত পরিসরে মানুষ চলাচল করেছেন। কিছু এলাকায় খাবারের দোকান খোলা থাকলেও আতঙ্কে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

আরও পড়ুন: স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে হবে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে প্রয়োজনীয় কাজ করা হবে: মির্জা ফখরুল

সকালে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে ছড়িয়ে রয়েছে সংঘর্ষে ব্যবহৃত ইটপাটকেল, বাঁশ, গাছের ডালপালা ও ভাঙা তোরণ। বেশ কিছু স্থানে গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে আগে থেকেই উত্তেজনার সৃষ্টি হওয়া এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে বুধবার সকালে। এনসিপি নেতাদের গাড়িবহর শহরে ঢোকার আগেই পুলিশের গাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরপর ইউএনও’র গাড়িতেও হামলা হয়।

আরও পড়ুন: নান্দাইলের বাহাদুরপুর হাউজ লোকে-লোকারণ্য, নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস

দুপুরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে পৌর পার্ক এলাকায় এনসিপির সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালায়। একপর্যায়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন এবং পরে সাঁজোয়া যান দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুপুরে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। তাতেও কাজ না হওয়ায় সন্ধ্যার পর পুরো শহরে কারফিউ জারি করা হয়।