মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: চিরনিদ্রায় ছোট্ট রাইসা, শোকে স্তব্ধ গ্রাম
ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ট্রেনিং বিমান দুর্ঘটনায় নিহত তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইসা মনি (৯) চিরনিদ্রায় শায়িত হল ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার গ্রামের মাটিতে। শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে গোপালপুর ইউনিয়নের বাজড়া দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে বাজড়া শামসুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং হাজারো শোকাহত গ্রামবাসী অংশ নেন।
রাইসা ছিল মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটিতে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে নিখোঁজ ছিল সে। শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। মুখমণ্ডলের আংশিক অবয়ব দেখে শিশুটিকে শনাক্ত করেন তার বাবা শাহাবুল শেখ। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেলে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাতে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আরও পড়ুন: সরকারি নির্দেশ ছাড়াই বন্ধ নরসিংদীর পেট্রোল পাম্প, বিপাকে মোটর চালকরা
শুক্রবার সকালেই মরদেহ পৌঁছায় ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাজড়া গ্রামে। নিস্তব্ধতা নেমে আসে পুরো এলাকায়। চারদিকে শুধু কান্নার রোল। স্থানীয়রা জানান, এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য এর আগে কেউ দেখেনি।
রাইসা মনির বাবা শাহাবুল শেখ একজন গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ব্যবসায়ী। পরিবারের সঙ্গে তিনি ঢাকার উত্তরা নয়ানগরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে রাইসা ছিল মেঝো। বড় বোন সিনথিয়া অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ছোট ভাই রাফসান মাত্র চার বছর বয়সী।
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের: দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত-১
শিশুটির চাচা ইমদাদুল শেখ জানান, দুর্ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। অবশেষে সিএমএইচে গিয়ে বাবার চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে মরদেহ শনাক্ত হয়। "মুখটা দেখে ভাই তাকে চিনে ফেলে,"—বলেন ইমদাদুল।
গোপালপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ওবায়দুর রহমান বলেন, “রাইসার মৃত্যুতে পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে। যেই মেয়েটিকে সবাই আদর করত, সেই ছোট্ট রাইসা এখন কবরের ঘুমে। এমন মৃত্যু আমরা কল্পনাও করিনি।”
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল। তিনি বলেন, “এ দুর্ঘটনা আমাদের জন্য গভীর বেদনার। এমন মৃত্যু কোনো পরিবারে যেন না আসে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবসময় রাইসার পরিবারের পাশে থাকব।”
এই শিশু মৃত্যুর ঘটনায় শুধু একটি পরিবারের স্বপ্ন নয়, গোটা জাতিই শোকাহত। রাইসার মুখে ছিল একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় নিভে গেল। রইল শুধু স্মৃতি, কান্না আর এক অপূরণীয় শূন্যতা।





