সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নবান্ন উৎসব

বগুড়ায় নতুন আলুর বাজারে আগুন, প্রতিকেজি ৬০০ টাকা

Sanchoy Biswas
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:১৮ অপরাহ্ন, ১৮ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি বছরের ন্যায় নবান্ন উৎসব উপলক্ষে আলুর বাজারে আগাম জাতের নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে। সেই সাথে নবান্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে নতুন আলুর বাজারে লেগেছে আগুন, যার প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা করে। এতে আকাশছোঁয়া দামের কারণে ক্রেতারা দিশেহারা।

আজ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পঞ্জিকা অনুযায়ী মঙ্গলবার শুভ নবান্ন উৎসব। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে নতুন জামাইসহ আত্মীয়-স্বজনদের নিমন্ত্রণের মাধ্যমে আপ্যায়ন করা হয়। সেই নিমন্ত্রণের খাদ্য তালিকায় সুস্বাদু বড় বড় মাছ ও নতুন আলুসহ নতুন নতুন শাকসবজি থাকে। আর একারণেই আজ বাজারে নতুন আলুর চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা নবান্ন উৎসবকে ঘিরে আলু বড় এবং পরিপক্ক হওয়ার আগেই অতিরিক্ত মুনাফার আশায় বাজারে নতুন নতুন আলু নিয়ে আসে।

আরও পড়ুন: স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে হবে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে প্রয়োজনীয় কাজ করা হবে: মির্জা ফখরুল

সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, বগুড়া শহরের রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার ও কলোনি বাজার–বেশ কয়েকটি দোকানে নতুন আলু বিক্রি করতে দেখা যায়। এতে লাল পাকড়ী জাতের আলু প্রতি কেজি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং ছোট আকারের আলু ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। তবে গত রবিবার একই আলু প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। এক দিনের ব্যবধানে কেজি প্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে রাজাবাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, গতকাল আমদানি বেশি থাকার কারণে একটু কম দামে পাওয়া গেছে। আজ বাজারে আলুর আমদানি কম, চাহিদা অনেক বেশি। তাই চাহিদা অনুযায়ী পাইকারি বাজারে আলু পাওয়া যায়নি। এজন্য আজ নতুন আলুর দাম অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরও পড়ুন: নান্দাইলের বাহাদুরপুর হাউজ লোকে-লোকারণ্য, নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস

রাজাবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন জানান, বাজারে নতুন আলু উঠেছে, আকারে বড় না হলেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নবান্ন উৎসবের কারণে দাম ভালো পাওয়ার জন্য কৃষকরা নতুন আলু বিক্রি করছে। তাই বেশি দামে কিনে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

অপরদিকে শহরের কলোনি বাজারে সবজি কিনতে আসা চন্দন সরকার জানান, “বাড়িতে নবান্নের আয়োজন করছি। এজন্য বাসায় কিছু আত্মীয়-স্বজন এসেছে। নবান্ন উৎসবে নতুন আলু খেতে হয়। তাই বাজার থেকে নতুন আলু এক কেজি কিনলাম ৬০০ টাকা দিয়ে।” তিনি আরও জানান, নতুন আলু বাজারে ব্যাপকভাবে আসতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তাই দাম বেশি হলেও কিনতে হয়েছে।

এছাড়াও ফতেহ আলী বাজারে নতুন আলু কিনতে আসা সুখলাল ঘোষ জানান যে, প্রতি বছরের ন্যায় তাদের সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের নবান্ন উৎসব পালন করা হয়। তাই এবারও বাজারে নতুন আলু কিনতে এসেছেন। “এই উৎসবে নতুন ধানের চাল, নতুন আলুসহ নতুন নতুন শাকসবজি, পিঠাপুলি আত্মীয়-স্বজনকে খাওয়ানো হয়। তাই বাজারে নতুন আলুর দাম বেশি হলেও নবান্ন উৎসবের কারণে কিনতে হচ্ছে।”