গোপালগঞ্জ-১ এ ভোটযুদ্ধের নতুন রূপ

মাঠে নেমে আলোচনায় বিএনপি প্রার্থী সেলিমুজ্জামানের সহধর্মিনী

Sanchoy Biswas
নেওয়াজ আহমেদ পরশ, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ন, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ৭:১৬ অপরাহ্ন, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর–কাশিয়ানী) আসনে নির্বাচন ঘিরে প্রচার-প্রচারণা জোরদার হয়েছে। এ সময়ে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী সেলিমুজ্জামান সেলিমের সহধর্মিনী সাবরিনা বিনতে আহমেদ (শুভ্রা) মাঠে নেমে সরাসরি তৃণমূল জনসংযোগ শুরু করায় এলাকায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল থেকে শুরু হয় এই প্রচারণা। প্রতিদিন বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে নারী ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়, লিফলেট বিতরণ এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যার খোঁজখবর নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: গাজীপুর প্রেসক্লাবে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া

বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ভোটারদের মন জয়

সেলিমুজ্জামান সেলিমের সহধর্মিনী সকালের প্রথম ঘণ্টায় কাশিয়ানী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম পরিদর্শন করেন। স্থানীয় নারীরা ঘর-বাড়ির কাজে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় তিনি তাদের কাছে গিয়ে বিএনপির প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: গাজীপুরে বোমা হামলার ২০তম বার্ষিকী পালিত

তিনি বলেন, “এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও উন্নয়ন–বৈষম্যের অবসান ঘটাতে আমার স্বামী আন্তরিকভাবে কাজ করতে চান। নারীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজ ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করাই বিএনপির অঙ্গীকার। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হলে‎ সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবেন। আমি আপনাদের কাছে শুধু ভোট চাইতে আসিনি, আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে এসেছি। আগামী নির্বাচনে আপনাদের ওপরই গোপালগঞ্জের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।”

তিনি গোপালগঞ্জের সার্বিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে একাধিক উন্নয়নমূলক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং ধানের শীষের প্রতীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

তার এ সফরে নারী ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা যায়। কেউ কেউ ঘর থেকে বের হয়ে কথা বলেন, অনেকে লিফলেট হাতে নিয়ে নিজের সমস্যার কথা তুলে ধরেন—ভাঙা সড়ক, বিদ্যুৎ সমস্যা, চিকিৎসা সুবিধার স্বল্পতা, বাজারে মূল্যবৃদ্ধি—বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।

নারী ভোটারদের আগ্রহে নির্বাচনী উত্তাপ বৃদ্ধি

অনেক নারী ভোটার জানান, প্রার্থীর সহধর্মিনী সরাসরি এসে কথা বলায় তারা নিজেদের কথা খোলামেলা বলতে পেরেছেন। স্থানীয় নারী আসমা বেগম বলেন, “নির্বাচনের সময় অনেকেই আসে, কিন্তু মহিলারা এসে খোঁজখবর নেয় কমই। প্রার্থী না পারলে তার স্ত্রী এসে কথা বলছে—এটা ভালো লাগছে।”

বিশেষ করে কাশিয়ানী সদর ইউনিয়নের থানাপাড়ায় কৌতূহলী নারীদের ভিড় দেখা যায়। অনেকেই বলেন, পূর্বের সংসদ সদস্যদের সময় নানা প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রভাব কম ছিল। এবার পরিবর্তনের আশা করছেন তারা।

বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যস্ততা বেড়েছে

প্রচারণার সঙ্গে থাকা বিএনপির স্থানীয় নেতারা জানান, কয়েকদিন ধরে সেলিমুজ্জামান সেলিম বিভিন্ন স্থানে পথসভা, কর্মী বৈঠক ও গণসংযোগ করছেন। তার পক্ষে সহধর্মিনী নারীদের মাঝে প্রচারণা জোরদার করায় পুরো প্রচারযন্ত্র “আরও সংগঠিত ও গতিশীল” হয়েছে।

স্থানীয় নেতা উপজেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শহীদুল আলম মুন্না বলেন, “নির্বাচনী মাঠে নারী ভোটার খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কাছে পৌঁছাতে পারার ফলে দলের পক্ষে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।” বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও এ প্রচারণাকে “মাঠপর্যায়ে নতুন ধারা” বলে উল্লেখ করেছেন।


স্থানীয় পরিবেশ শান্ত হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে

অন্যদিকে, জামায়াত ইসলামী সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও নিজ নিজ এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। পোস্টার, লিফলেট, রোডশো, পথসভা—সব মিলিয়ে পুরো আসনজুড়ে নির্বাচনী উত্তাপ স্পষ্ট। যদিও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গোপালগঞ্জ-১ আসন দীর্ঘদিন ধরেই একতরফা প্রভাবের বলে পরিচিত হলেও এবার মাঠে কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দেখা যাচ্ছে। নারী ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এ নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অবকাঠামো, কৃষি, যুবকর্মসংস্থান—মূল ইস্যু হয়ে উঠছে

এলাকায় কথা বলে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি কৃষি–সংকট, সারের দাম, চিকিৎসা সুবিধা, ইউনিয়ন পর্যায়ে সড়ক সংস্কার, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ—এসব ইস্যু বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বিভিন্ন স্থানে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার সময় এগুলোই অধিকাংশের মুখে এসেছে। সেলিমুজ্জামান সেলিমের সহধর্মিনী এসব সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে শুনে নথিভুক্ত করেন এবং তা প্রার্থীর কাছে তুলে ধরা হবে বলে উল্লেখ করেন।

সমগ্র এলাকায় নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়বে

দিনব্যাপী প্রচারণা শেষে সন্ধ্যার সময় স্থানীয় বাজারে সমাবেশ হলে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এলাকাজুড়ে নির্বাচনী উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। প্রচারণার গাড়ি, মাইকিং, ছোট ছোট পথসভা চলছে একটানা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী কয়েকদিনের প্রচারপর্ব নির্বাচন–পরিস্থিতির ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে। নারী নেতৃত্বের অংশগ্রহণ এ আসনে প্রচারের নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।