যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান

নারায়ণগঞ্জে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল অস্ত্র উদ্ধার, আটক ৫

Sanchoy Biswas
ইউসুফ আলী প্রধান, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:৪৭ অপরাহ্ন, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৬:৫১ অপরাহ্ন, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। এ সময় বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয় এবং ৫ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার ভোর থেকে যৌথবাহিনী খালিয়ারচর, মধ্যার চর ও কদমির চরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘিরে ফেলে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন বাড়ি–ঘরগুলো চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পুলিশের খোয়া হওয়া একটি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি, ৮টি ককটেল, ইলেকট্রিক শক দেওয়ার যন্ত্র, নগদ ১০ লাখ ১৫ হাজার ৮শ টাকা, বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র–যন্ত্র যেমন টেটা, রামদা, চাপাতি, কুড়াল, হকিস্টিক, বড় ও ছোট ছোড়া উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ৭.৫ ডিগ্রি, পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে শৈত্যপ্রবাহ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযানের আওতায় থাকা বাড়িগুলো উপজেলার রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পরিচিত কয়েকজন নেতার বাড়ি—যেমন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মোবারক হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালামত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা জয়নাল, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ফকির জহির রহমান, সাবেক যুবলীগ নেতা সাত্তারসহ অন্যান্য নেতা–কর্মীদের বাড়ি।


আরও পড়ুন: আদালতের এজলাস থেকে নথি চুরি, আটক ১

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মোহাম্মদ স্বপন, পারভেজ, মতিন, জাকির ও রিংকু মিয়া। অভিযান শেষে যৌথবাহিনী তাদের উদ্ধারকৃত অস্ত্রশস্ত্রসহ খালিয়ার চর জাহানারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো করে।

শুক্রবার দুপুরে খালিয়ার চর জাহানারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ৪৫ এমএলআরএস রেজিমেন্ট অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্ণেল জুবায়ের সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সন্ত্রাস ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে রাখতে যৌথবাহিনী ভোর থেকে অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযান পরিচালনার সময় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্রশস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, অভিযানে সেনাবাহিনীর ১৪০ জন সদস্য ও থানা পুলিশের ১০ জন সদস্য অংশ নিয়েছিলেন। যৌথবাহিনী এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধ ও অস্ত্রাস্হান নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে।