ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপির একক আধিপত্য, নাকি শেষ মুহূর্তে বড় চমক?
নির্বাচনী ডামাডোলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শিল্পাঞ্চল খ্যাত এই এলাকায় বইছে ভোটের হাওয়া। মাঠপর্যায়ে ধানের শীষের সরব উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো হলেও অন্য প্রার্থীরাও শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে টিকে থাকতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন।
সাভার ও আশুলিয়া নিয়ে গঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বীর অভাব এবং সুসংগঠিত সাংগঠনিক ভিত্তির কারণে বর্তমানে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দীন বাবু। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় কর্মী-সমর্থকদের শক্ত অবস্থানের কারণে তিনি বেশ ফুরফুরে মেজাজেই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: জাইমা রহমান চেলসি নারী দলের গোলকিপারের সুযোগ পেয়েছিলেন : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর আলাদা কোনো প্রার্থী না থাকা বিএনপির এই প্রার্থীর জন্য ভোটের সমীকরণে বাড়তি সুবিধা হিসেবে কাজ করছে। গণসংযোগকালে ডা. সালাউদ্দীন বাবু অঙ্গীকার করেছেন যে, নির্বাচিত হলে তিনি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা এবং এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করবেন।
অন্যদিকে, ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেত্রী দিলশানা পারুল তুলনামূলকভাবে নতুন মুখ হলেও তিনি দমে যাননি। শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে তিনি প্রতিদিন শহর থেকে গ্রাম চষে বেড়াচ্ছেন। তবে জোটের অন্দরে কিছুটা জটিলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে; তার অভিযোগ অনুযায়ী, জোটের শরিক দল এলডিবি আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় এবং কিছু দলের কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পাওয়ায় তাকে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি নেতার বাড়িতে সশস্ত্র হামলা, গুলিবিদ্ধ ওসমান গনি
এলডিবি প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় আছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা চৌধুরী হাসান সোহরাওয়ার্দী। সাভার ক্যান্টনমেন্টের সাবেক জিওসি হওয়ার সুবাদে এলাকাটি তার বেশ পরিচিত এবং এখানে তার একটি নিজস্ব নেটওয়ার্ক রয়েছে, যা তিনি প্রচারণায় কাজে লাগাচ্ছেন।
ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীও এই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফারুক খান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ইসরাফিল হোসেন সাভারী, গণঅধিকার পরিষদের শেখ শওকত হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. বাহাদুর ইসলাম এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. কামরুল ইসলাম।
যদিও এখন পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থীর গণসংযোগ ও সমর্থকদের উপস্থিতি বেশি চোখে পড়ছে, তবে ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসবে ততই পাল্টে যেতে পারে শ্রমঘন এই অঞ্চলের সমীকরণ। শেষ পর্যন্ত সাভার-আশুলিয়ার রায় কার ঘরে যাবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনের ফল ঘোষণা পর্যন্ত।
উল্লেখ্য, ঢাকা-১৯ আসনে মোট ভোটার ৭,৪৭,০৭০ জন, এরমধ্যে পুরুষ ভোটার: আনুমানিক ৩,৭৯,৯০৭ জন, নারী ভোটার: আনুমানিক ৩,৬৭,১৫০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ: ১৩ জন।





