টাঙ্গাইলে ভালোবাসা দিবসের রঙিন প্রস্তুতি

ফুলের দোকানে উপচে পড়া ভিড়, বিনোদন কেন্দ্রের নয়া লুক

Sanchoy Biswas
শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ৬:৫৮ অপরাহ্ন, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, ১৪ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। সেই সঙ্গে দুয়ারে কড়া নাড়ছে ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’। টাঙ্গাইল শহরসহ জেলাজুড়ে শনিবারের (১৪ ফেব্রুয়ারি) এই দিবসটিকে ঘিরে তারুণ্যের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ। প্রিয় মানুষকে শুভেচ্ছা জানাতে ‘লাল গোলাপ’ আর ‘বাহারি উপহার’ কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছে শহরবাসী। টাঙ্গাইল পৌর উদ্যান, ডিসি লেক, এসপি পার্ক, মণতলা, ঘারিন্দা সোলপার্ক এবং যমুনা রিসোর্টের মতো বিনোদন কেন্দ্রগুলো ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে নতুন লুকে সাজানো হয়েছে।

সরেজমিনে শহরের প্রধান প্রধান ফুলের দোকান ও গিফট শপগুলো ঘুরে দেখা গেছে ব্যাপক প্রস্তুতি। শহরের ভিক্টোরিয়া রোড, সমবায় মার্কেট, মেইন রোড এবং নিরালা মোড় এলাকার দোকানগুলোতে নতুন সব উপহারসামগ্রী দিয়ে সাজানো হয়েছে। দোকানিরা লাল গোলাপ, রজনীগন্ধা, জারবেরা, অর্কিডসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ফুলের পসরা সাজিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে ফুলের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত মজুদ নিশ্চিত করছেন ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন: হরিদাসের অর্থের উৎস ও দাতাদের পরিচয় জানতে চায় পুলিশ

শহরের কয়েকটি স্বনামধন্য ফুলের দোকানের স্বত্ত্বাধিকারী খান হাবিব, বিপ্লব পাল, গোবিন্দ পাল, বরুন ঘোষ, জাহাঙ্গীর আলম সহ অনেকেই জানান, ভালোবাসা দিবস আর বসন্ত উৎসব একই সময়ে হওয়ায় ফুলের চাহিদা আকাশচুম্বী। বিশেষ করে লাল গোলাপের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। গত বছরের তুলনায় এবার ফুলের দাম কিছুটা বেশি হলেও ক্রেতাদের মাঝে আগ্রহের কমতি নেই।

এদিকে উপহারের দোকানগুলোতে দেখা গেছে তরুণ-তরুণীদের ভিড়। প্রিয়জনের জন্য কার্ড, মগ, শোপিস, পারফিউম এবং কাস্টমাইজড গিফট আইটেম কিনতে তারা ব্যস্ত। শহরের নামী শপিং মলগুলোতে বিশেষ ছাড়ের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে অনেক পণ্যে। বিশেষ করে রেস্টুরেন্ট, ফাস্টফুড ও ক্যাফেগুলোও পিছিয়ে নেই; আলোকসজ্জা আর বিশেষ ‘ভ্যালেন্টাইন ডিশ’ দিয়ে গ্রাহকদের টানার সব প্রস্তুতি সেরে রেখেছে তারা। দিবসটি উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও নানা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে উৎসবের আনন্দ যেন মাত্রা না ছাড়ায় সেদিকে নজর রাখছে স্থানীয় প্রশাসন।

আরও পড়ুন: একতা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, থমকে উত্তরবঙ্গের রেলপথ

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, কেবল জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের মতো একটা মহাজজ্ঞ অনুষ্ঠিত হলো। সবাই খুব পরিশ্রম করেছে। দিবসটি ঘিরে শহরের পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে স্বাভাবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। তবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সব মিলিয়ে বসন্তের দখিনা বাতাসের সাথে ভালোবাসার রঙ মেখে শনিবার টাঙ্গাইলে এক উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করবে ‘ভালোবাসা দিবস’।