শ্রমিক থেকে শ্রমিক আন্দোলনের অগ্রনায়ক ফরিদুল ইসলাম ফরিদ
একসময় বয়স কম বলে পোশাক কারখানা থেকে যাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, আজ সেই মানুষটিই শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ। জীবনের শুরুতেই বঞ্চনা আর অবহেলার স্বাদ পাওয়া ছেলেটি আজ হাজারো শ্রমিকের আস্থা ও ভরসার জায়গা।
কঠোর শ্রম, দীর্ঘ সংগ্রাম আর মাঠের বাস্তব অভিজ্ঞতা তাকে গড়ে তুলেছে একজন আপসহীন শ্রমিক নেতায়।
আরও পড়ুন: স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য ফয়সল চৌধুরীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন
শ্রমিক জীবনের প্রতিটি ধাপে বৈষম্য, অনিশ্চয়তা ও নির্যাতনের বাস্তব চিত্র খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি।
কারখানার ভেতরের কষ্ট, ন্যায্য মজুরি না পাওয়া, নিরাপত্তাহীন কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিকদের নীরব অসহায়ত্ব তাকে ভেতরে ভেতরে নাড়া দিত। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে দাঁড় করিয়েছে নিপীড়িত শ্রমিকদের পাশে। শ্রমিক থেকে আজ শ্রমিক নেতা হয়ে ওঠা ফরিদুল ইসলাম ফরিদ বর্তমানে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটি-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আরও পড়ুন: শপথ এড়ালে বিপদ ঘনাবে: সংস্কার পরিষদে না গেলে বিএনপির ক্ষমতা পাঁচ বছর টিকবে না
ফরিদুল ইসলাম ফরিদ বলেন,আমি নিজেই একজন নির্যাতিত শ্রমিক ছিলাম। সেই কষ্ট এখনো ভুলিনি। কারখানার ভেতরে শ্রমিকরা কীভাবে বাঁচে, কীভাবে প্রতিদিন লড়াই করে, তা আমি নিজের চোখে দেখেছি। সেই থেকেই শ্রমিক ভাই-বোনদের জন্য মন কাঁদে। শ্রমিকের অধিকার প্রশ্নে আমি কোনো আপোষ করি না।
শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে তার অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট। আন্দোলন, আলোচনা ও সংগঠনের মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবি সামনে আনাই তার রাজনীতি। তার নেতৃত্বে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটি দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকবান্ধব শিল্পখাত গড়ে তোলার লক্ষ্যে একাধিক যৌক্তিক দাবি তুলে ধরছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্রমিকদের বাঁচার মতো মজুরি নিশ্চিত করা, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার কার্যকর করা, সব সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য জাতীয় মজুরি কাঠামো প্রণয়ন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রম আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, নারী শ্রমিকদের জন্য ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি কারখানায় সিবিএ সক্রিয় করা।
ফরিদুল ইসলাম ফরিদ মনে করেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে শিল্পখাত কখনোই টেকসই হতে পারে না। তিনি বলেন, শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে। আর শিল্প বাঁচলে দেশ এগিয়ে যাবে। শুধু মুনাফার হিসাব করলে চলবে না, শ্রমিকের জীবন ও মর্যাদাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও জানান, এসব দাবি শুধু আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমান সরকারের কাছেও একই দাবিগুলো জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হবে। শ্রমিকবান্ধব নীতি ও বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দেশের শিল্পখাতকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক রাখা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
শ্রমিক থেকে শ্রমিক আন্দোলনের অগ্রনায়ক হয়ে ওঠা ফরিদুল ইসলাম ফরিদের এই পথচলা নিছক ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি বাংলাদেশের লাখো শ্রমিকের কণ্ঠস্বর, দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ইতিহাস এবং অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। শ্রমিকের অধিকার ও শিল্পের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াইয়ে তার এই সংগ্রাম আজও চলমান।





