বরগুনার তালতলীতে ১৯ কিমি খাল পুনঃখনন

সেচ সংকট কাটিয়ে বহু ফসলের স্বপ্নে হাজারো কৃষক

Sanchoy Biswas
বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:৪৫ অপরাহ্ন, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪৭ অপরাহ্ন, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নে ৯টি খালের ১৯ কিলোমিটার পুনঃখনন সম্পন্ন হওয়ায় জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট অনেকাংশে দূর হয়েছে। ফলে কয়েক হাজার প্রান্তিক কৃষক এখন এক ফসলি জমিকে দুই থেকে তিন ফসলিতে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়া, চিলু মাঝি, সুন্দরিয়া, তাতীপাড়া ও পাওয়াপাড়া-মোয়াপাড়াসহ ৯টি খাল দীর্ঘদিন পলি জমে ভরাট হয়ে ছিল। শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে কৃষকদের বছরে একটি মাত্র ফসল উৎপাদন করতে হতো। আবার বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বিস্তীর্ণ জমি জলাবদ্ধতায় ডুবে ফসল নষ্ট হতো। দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।

আরও পড়ুন: কুমার নদীর পাড়ে রাতারাতি দোকানঘর, হতদরিদ্রের জমি দখলের অভিযোগে উত্তাল নগরকান্দা

এ পরিস্থিতি উত্তরণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর আওতায় নলবুনিয়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির মাধ্যমে ৯টি খালের ১৯ কিলোমিটার পুনঃখনন করে। প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। খাল পুনঃখননের পাশাপাশি সংযোগ সড়কও নির্মাণ করা হয়েছে, ফলে সেচ সুবিধা ও যাতায়াত—উভয় ক্ষেত্রেই উন্নতি এসেছে।


আরও পড়ুন: গাজীপুরে গুলিসহ বিদেশি পিস্তল উদ্ধার

নলবুনিয়া এলাকার কৃষক জালাল মিয়া বলেন, কিছুদিন আগেও খালগুলো ডোবা-নালার মতো ছিল। মানুষ ময়লা-আবর্জনা ফেলত। এতে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ত, দুর্গন্ধে চলাচল কষ্টকর হয়ে উঠত। এখন খাল খননের ফলে পরিবেশ ও কৃষি- দুই ক্ষেত্রেই উপকার মিলবে।

তাঁতিপাড়া গ্রামের কৃষক জুয়েল জোমাদ্দার বলেন, আগে পানির অভাবে শুধু বর্ষা মৌসুমে একবার ধান চাষ করতাম। এখন একাধিক ফসল আবাদ সম্ভব হবে। এতে আয় বাড়বে, বেকারত্বও কমবে। তিনি এ ধরনের প্রকল্প অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, নলবুনিয়া সমবায় সমিতির মাধ্যমে খাল পুনঃখননের ফলে কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এক ফসলি জমি দুই থেকে তিন ফসলিতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী খালগুলো পুনঃখনন করা হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ইলিয়াস বলেন, গ্রীষ্মে পানির অভাব ও বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে এতদিন কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হতো। এখন সেচ সুবিধা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় বছরে একাধিকবার ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।